Bangladesh Cricket Board : বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেন একের পর এক দুঃসংবাদের ঝড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) কার্যত অস্তিত্ব সংকটের মুখে। বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে চাপে পড়েছে বিসিবি। আর এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এল আরও এক বিস্ফোরক খবর—মাঝরাতে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিসিবি নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ? নাকি সামনে আরও বড় কোনও শাস্তির আশঙ্কা করেই দেশ ছাড়লেন বোর্ড সভাপতি?
⚠️ বোর্ডে ভাঙন, পদত্যাগে অস্থিরতা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই বিসিবির দু’জন শীর্ষকর্তার পদত্যাগ গোটা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং আইসিসি-র সঙ্গে সংঘাত—সব মিলিয়ে বোর্ডের অন্দরে চরম অস্থিরতা।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভেবেছিলেন, অভিজ্ঞ প্রাক্তন ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল শক্ত হাতে হাল ধরবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো ছবি। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, রবিবার গভীর রাতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন।
❓ কেন হঠাৎ অস্ট্রেলিয়া সফর?
ক্রিকফ্রেনজি নামক একটি ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমিনুল ইসলাম বুলবুল নাকি আপাতত অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। তবে এই ব্যাখ্যা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের একেবারেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
সমর্থকদের প্রশ্ন, যখন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় চলছে, তখন বোর্ড সভাপতির এভাবে দেশ ছাড়াটা কি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় নয়? সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
💸 আর্থিক ধাক্কা: শত শত কোটি টাকার ক্ষতি
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে বিসিবির অর্থনীতিতে। ভারতীয় মুদ্রায় হিসাব করলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষতির অঙ্ক কয়েকশো কোটি টাকার কম নয়।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আইসিসি থেকে প্রতিবছর যে রাজস্ব বিসিবি পেয়ে থাকে, তার প্রায় ২৪৭.৪ কোটি টাকা কমে যেতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা।
এর পাশাপাশি—
- সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয় বন্ধ
- স্পনসরশিপ চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা
- আইসিসি ইভেন্টের রাজস্ব বণ্টন থেকেও বঞ্চিত হওয়া
সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিসিবির মোট উপার্জনের প্রায় ৬০ শতাংশ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
📉 ক্ষতিপূরণও দিতে হতে পারে ICC-কে
শুধু আয় বন্ধ নয়, বিসিবির সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপ সংক্রান্ত লজিস্টিকস, ব্রডকাস্টিং এবং সূচি বদলের কারণে আইসিসি যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, তার ক্ষতিপূরণও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “একটা ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পুরো বোর্ডকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব করে দিতে পারে।”
🌍 বিশ্ব ক্রিকেটে একঘরে হওয়ার আশঙ্কা
আইসিসি ও বিসিসিআই-এর সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে যাওয়ার অর্থ শুধুই একটি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া নয়। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও।
অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের আশঙ্কা—
- ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাওয়া দেশগুলি বাংলাদেশকে এড়িয়ে চলতে পারে
- দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পাওয়াই কঠিন হয়ে উঠবে
- শুধুমাত্র নীচের সারির দলগুলির সঙ্গেই খেলতে বাধ্য হতে পারে বাংলাদেশ
এর ফলে বিশ্ব ক্রিকেট মানচিত্রে কার্যত ‘একঘরে’ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে টাইগারদের।
🔚 উপসংহার
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে কতটা বড় ঝুঁকি নিয়েছে, তা এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা, কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং ভুল সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে আজ বিসিবি দাঁড়িয়ে এক গভীর সংকটের সামনে।
এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে শুধু বর্তমান নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে।



