Wednesday, March 4, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবিএনপি জিতলেও এখনই ক্ষমতা ছাড়ছেন না মুহাম্মদ ইউনূস ! কেন দেরি হচ্ছে...

বিএনপি জিতলেও এখনই ক্ষমতা ছাড়ছেন না মুহাম্মদ ইউনূস ! কেন দেরি হচ্ছে নতুন সরকার গঠনে ?

Bangladesh Election News : বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের অনিশ্চয়তার মেঘ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও এখনও ক্ষমতা হস্তান্তর হচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বিএনপি জিতলেও কেন এখনই গঠিত হচ্ছে না নতুন সরকার? কেন এখনও ক্ষমতায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস?

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু জটিল ধারায় এবং বর্তমান প্রশাসনিক বাস্তবতায়।

নির্বাচনে ফল স্পষ্ট, তবুও অপেক্ষা কেন?

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রায় দুই দশক পর তারা আবার ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের হাত থেকে নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এখনই হচ্ছে না।

কারণ হিসেবে উঠে আসছে—সংবিধানগত বাধা, শপথগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং স্পিকার পদে শূন্যতা

বাংলাদেশের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুহাম্মদ ইউনূসের দফতরের সূত্র জানিয়েছে যে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের আগে নতুন সরকার গঠন সম্ভব নয়।

কত আসনে জিতেছে কোন দল?

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। ফলাফল অনুযায়ী—

  • বিএনপি জিতেছে ২১২টি আসনে
  • জামাত ও তার জোট শরিকেরা পেয়েছে ৭৭টি আসন
  • অন্যান্য দল পেয়েছে ৮টি আসন

তবে দুটি আসনের ফলাফল এখনও আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে শুক্রবার রাতে। তবুও সরকার গঠন আটকে রয়েছে শপথগ্রহণের প্রশ্নে।

সংবিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অথবা তাঁর মনোনীত কোনও ব্যক্তি। কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে বড় সমস্যা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পদত্যাগ করেন। তারপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে নেই। অনেকের দাবি, তিনি দেশ ছেড়ে পলাতক। সবচেয়ে বড় কথা—পদত্যাগের সময় তিনি কাউকে শপথ পাঠ করানোর জন্য মনোনীত করে যাননি।

অন্যদিকে, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে জেলবন্দি। ফলে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কেউই শপথ পাঠ করানোর মতো অবস্থায় নেই।

তাহলে বিকল্প কী?

সংবিধানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা রয়েছে। যদি স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার

এই কারণেই সরকারি গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক। সেই সময়সীমা শেষ হলেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারেন। তার পরই নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের রাস্তা খুলবে।

তাই কেন ইউনূস এখনও ক্ষমতায়?

এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিকভাবেই ক্ষমতায় বহাল থাকবে। অর্থাৎ, মুহাম্মদ ইউনূস এখনই ক্ষমতা ছাড়তে পারেন না—এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আইনগত বাধ্যবাধকতা

এদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, যদি সব দল একমত হয়ে কোনও বিকল্প প্রস্তাব দেয়, তবে তা বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আপাতত সংবিধানের পথেই এগোতে চাইছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে যেমন উৎসাহ, তেমনই অপেক্ষার চাপও বাড়ছে। আবার অন্যদিকে বিরোধী শক্তিগুলিও পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মধ্যেও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কয়েক দিনের বিলম্ব ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

শেষ কথা

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপি জিতলেও এখনই সরকার গঠন না হওয়ার পিছনে কোনও গোপন রাজনীতি নয়, বরং বাংলাদেশের সংবিধানই প্রধান কারণ। শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সোমবারের পরেই পরিষ্কার হয়ে যাবে—বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় ঠিক কবে থেকে শুরু হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments