Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে এক গভীর, অশনি সংকেতময় কালো দিন !

বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে এক গভীর, অশনি সংকেতময় কালো দিন !

Bangladesh Hindu Persecution : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগজনক মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিসরে যেভাবে একের পর এক বাধা তৈরি হচ্ছে, তা গভীর আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পৌষ পার্বণ বা মকর সংক্রান্তি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি উৎসব বন্ধের ঘটনা নয়—বরং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সামগ্রিক সামাজিক সহাবস্থান ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসছে।

পৌষ পার্বণ বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন ধান ঘরে ওঠার আনন্দ, পিঠেপুলির আয়োজন, গ্রামীণ মেলা—সব মিলিয়ে এটি কেবল হিন্দুদের নয়, বরং সামগ্রিক বাঙালি ঐতিহ্যের প্রতীক। যুগের পর যুগ ধরে পদ্মা-পাড়ের বাংলাদেশেও এই উৎসব পালিত হয়ে এসেছে। কিন্তু এবছর সেই চিরাচরিত আনন্দে ছেদ পড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কট্টরপন্থী কিছু গোষ্ঠীর তরফে পৌষ পার্বণকে ‘ইসলামে হারাম’ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার ডাক দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংখ্যালঘুদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় পোস্টার, মাইকিং ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে হিন্দুদের সতর্ক করা হয়েছে—নিজেদের এলাকায় কোনওরকম উৎসব বা জমায়েত না করতে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সংখ্যালঘু পরিবারগুলির মধ্যে। বহু জায়গায় উৎসব বাতিল করা হয়েছে বা সীমিত পরিসরে আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছেন মানুষজন।

উদ্বেগের বিষয় হল, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান সামনে আসেনি। প্রশাসনের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মত বিশ্লেষকদের একাংশের। তাঁদের মতে, যখন সংবিধান স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠছে, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা।

এই প্রথম নয়। এর আগেও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, প্রতিমা বিসর্জন বা উৎসব ঘিরে বাধা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক অতীতে নারী নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, এমনকি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও সংবাদ শিরোনামে এসেছে। এই সমস্ত ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় উগ্র গোষ্ঠীগুলির সাহস আরও বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, ‘ধর্মীয় বিধি’র ব্যাখ্যা সামনে এনে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অধিকার খর্ব করার প্রবণতা বিপজ্জনক। কারণ এতে সমাজে বিভাজন আরও গভীর হয়। প্রশ্ন উঠছে—যদি একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর উৎসব বা সংস্কৃতি ‘হারাম’ বলে বন্ধ করার চেষ্টা চলে, তবে তা কি বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ?

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তিই ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে সেই ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বহু নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠন। তাঁদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বাঙালি সংস্কৃতি ও সংখ্যালঘু পরিচিতিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের নজরও ধীরে ধীরে বাংলাদেশের দিকে ফিরছে। সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, প্রশ্ন এখন আর শুধু পৌষ পার্বণ বা একটি উৎসব ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্নটা অনেক বড়—বাংলাদেশ কি তার বহুত্ববাদী চরিত্র ধরে রাখতে পারবে? সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র কি সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ নেবে? নাকি উগ্রপন্থীদের চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে প্রশাসন?

সময়ের মধ্যেই যদি এই মৌলবাদী আগ্রাসনের রাশ না টানা যায়, তবে তার পরিণতি যে ভয়াবহ হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করছেন বহু সমাজবিদ। আজ যে নীরবতা দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত বলেই মনে করছেন তাঁরা। বাংলাদেশের সামনে কি সত্যিই এক গভীর, কালো সময় অপেক্ষা করছে—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে আগামী দিনের ঘটনাপ্রবাহ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments