Bangladesh News : আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে আবারও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের নাগরিকদের উপর। শোনা যাচ্ছে, আমেরিকায় যেতে চাইলে এবার বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হতে চলেছে। সম্ভাব্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা রাখতে হতে পারে। এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে ওপার বাংলায়।
কী এই ভিসা বন্ড? কেন এত টাকা?
ভিসা বন্ড মূলত এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা। কোনও বিদেশি নাগরিক যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমেরিকা ছেড়ে না যান বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেন, সে ক্ষেত্রে সেই বন্ডের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। নতুন নীতির আওতায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই বন্ডের অঙ্ক ৫,০০০, ১০,০০০ বা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলার নির্ধারণ করা হতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার বিদেশ দফতর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন দেশগুলিকে চিহ্নিত করছে, যেখান থেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক আবেদনকারী আমেরিকায় থেকে যাওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছেন।
কবে থেকে কার্যকর হতে পারে এই নিয়ম?
খবরে প্রকাশ, ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নতুন ভিসা বন্ড সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বি১/বি২ (পর্যটক ও ব্যবসায়িক) ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময়ই আবেদনকারীর ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বন্ডের অঙ্ক চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
কোন কোন দেশ এই তালিকায়?
বাংলাদেশ একা নয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮টি দেশ এই ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশ হল—
বাংলাদেশ, ভেনেজুয়েলা, নেপাল, নাইজেরিয়া, কিউবা, উগান্ডা, জিম্বাবোয়ে, সেনেগাল, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি ও গ্যাবন।
এর আগে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশের নাগরিকদের জন্য এই ধরনের আর্থিক শর্ত চালু করা হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় নতুন করে চাপ বাড়ল বাংলাদেশের উপর।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি কতটা কড়া?
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার বার্তা দিয়েছিলেন। অবৈধ অভিবাসন রুখতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
✔ বহু অবৈধ অভিবাসীকে আমেরিকা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে
✔ এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি বেড়েছে
✔ ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
এই সমস্ত সিদ্ধান্তের পর ভিসা বন্ড নীতি কার্যকর হওয়াকে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছেন।
ইউনূস সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ?
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ বাড়তে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের কাছে বিষয়টি অস্বস্তিকর বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। কারণ, আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেই নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব কতটা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিসা বন্ড ব্যবস্থা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকেই পড়াশোনা, চিকিৎসা বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমেরিকায় যেতে চান। কিন্তু এককালীন এত বড় অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির জেরে আমেরিকায় যাওয়ার স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে উঠছে বহু বাংলাদেশির কাছে। ভিসা বন্ডের মতো নতুন আর্থিক শর্ত ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনাচ্ছে ওপার বাংলায়, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগও।



