Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিশ্বকাপে কলকাতার বদলে ভারতের অন্য শহরে খেলবে বাংলাদেশ? ইডেন থেকে সরে যাবে...

বিশ্বকাপে কলকাতার বদলে ভারতের অন্য শহরে খেলবে বাংলাদেশ? ইডেন থেকে সরে যাবে বাংলাদেশের ম্যাচ?

ভারতে আয়োজিত আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) ও আইসিসির মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হচ্ছে। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে যে জল্পনা শুরু হয়েছিল, তা এখন পুরো ভারত জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি আদৌ ভারতে এসে বিশ্বকাপ খেলবে? নাকি শেষ মুহূর্তে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে আইসিসি?

এই বিতর্কে সরাসরি মুখ খুলেছেন বিসিবি সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের কোনও শহরেই খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। শুধু কলকাতা নয়, হায়দরাবাদ, চেন্নাই বা অন্য যে কোনও বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব এলেও তা গ্রহণ করা হবে না।

জানা গিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই আইসিসি-কে দুটি আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে এখনও পর্যন্ত সেই চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব এসে পৌঁছয়নি। বুলবুল জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই—সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যেই আইসিসির প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

আইসিসি সূত্রে খবর, ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের যে প্রস্তাব বিসিবি দিয়েছে, সেটিকে কার্যত অবাস্তব বলেই মনে করছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা। কারণ, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা—সব কিছু আগেই চূড়ান্ত হয়ে থাকে।

তবে সূত্রের আরও দাবি, বাংলাদেশকে বোঝাতে ভারতের মধ্যেই বিকল্প কোনও শহরের প্রস্তাব দিতে পারে আইসিসি। দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদ বা চেন্নাইয়ের মতো শহরের নাম উঠে এসেছে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে। কিন্তু বিসিবি সভাপতি আগেই সেই সম্ভাবনার দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ভারতের অন্য কোনও শহরে খেললেও সেটা তো ভারতের মাটিই। আমাদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এই সিদ্ধান্ত একার নয়, আমাদের সরকার যা নির্দেশ দেবে, সেই অনুযায়ীই চলতে হবে।”

আইসিসির তরফে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই বলেই বারবার জানানো হয়েছে। প্রথম চিঠির উত্তরে আইসিসি জানিয়ে দেয়, ভারতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং শেষ মুহূর্তে ভেন্যু বদল করা সম্ভব নয়। শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয় চিঠির জবাবেও একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করা হবে।

আইসিসির যুক্তি অনুযায়ী, বিসিবি নিরাপত্তার কথা বললেও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট বা যুক্তিপূর্ণ প্রমাণ তুলে ধরতে পারেনি। শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা বদলানো সম্ভব নয়।

এই উত্তেজনার মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক হতে চলেছে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ রবিবার বরোদায় ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীন বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে না আসে, তাহলে টুর্নামেন্টের সূচি ও ব্যবস্থাপনায় কী পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হবে।

সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুলবুল বলেন, “আমরা আইসিসির কাছে আমাদের উদ্বেগের সব তথ্য ও নথি পাঠিয়েছি। এখনও কোনও জবাব পাইনি। কয়েক দিন আগেও আমাদের যে অবস্থান ছিল, আজও সেটাই রয়েছে।”

সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারত ও বাংলাদেশের এই অবস্থানগত দ্বন্দ্ব টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাংলাদেশ সেই সিদ্ধান্ত মানে কি না, সেটাই এখন ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments