পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়াল ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই শাসক ও বিরোধী দলের সংঘর্ষের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। এই আবহেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন Mamata Banerjee। তাঁর অভিযোগ, শুধু রাজনৈতিক বিরোধ নয়—ব্যক্তিগত স্তরেও অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগেই। Amit Shah-এর রোড শো ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় ভবানীপুরে। সেই সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তৃণমূলের সমর্থকদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, ওই দিনই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে অশান্তি ছড়ায় এবং তাঁর পোস্টারকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর আচরণ করা হয়। এমনকি, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পোস্টারে থুতু দেওয়া হয়েছে—যা রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা অতিক্রম করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
একই সঙ্গে ওই দিন Abhishek Banerjee-র বাড়ির দিকেও জুতো দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ঘিরে তৃণমূল শিবিরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এও দাবি করেছেন, এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষ নিজেরাই রাস্তায় নেমে আসেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
রবিবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে এক জনসভা থেকে পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমার বাড়ির সামনে হামলা হয়েছে, পোস্টারে থুতু দেওয়া হয়েছে, অভিষেকের বাড়ির দিকে জুতো দেখানো হয়েছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষই প্রতিবাদ করেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে দেখার প্রয়োজন নেই—বরং এটি কিছু বহিরাগতদের কাজ বলেই তাঁর দাবি।
ভবানীপুর কেন্দ্রটি এবারের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে শাসক দলের মুখ তথা মুখ্যমন্ত্রী নিজে, অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন Suvendu Adhikari। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্রটি এখন হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনও কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ভবানীপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—ভোটের আগে কোনওরকম হিংসা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।
এদিনের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভবানীপুরে চেকিংয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে, বিশেষ করে মহিলাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এবং বলেন, “নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন।”
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদল মনে করছে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরির জন্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, এই অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভোটের আগে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা।
তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা বিষয় স্পষ্ট—নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো শান্তিপূর্ণ ভোটদান, আর সেখানে এই ধরনের সংঘর্ষ বা অশান্তি কোনওভাবেই কাম্য নয়।
ভবানীপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।



