Bird Flu : দেশের একাধিক রাজ্যে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বার্ড ফ্লু। শীত পড়তেই দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এই সংক্রমণ, যার জেরে প্রশাসন জারি করেছে সতর্কতা। এর মধ্যেই বহু মানুষ নিয়মিত মুরগির মাংস খাচ্ছেন, কেউ আবার চিন্তায় পড়েছেন—এই মুহূর্তে আদৌ কি নিরাপদ চিকেন খাওয়া? সামান্য অসাবধানতা কিন্তু বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিস্থিতি বোঝা এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।
কী এই বার্ড ফ্লু?
বার্ড ফ্লু বা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত হাঁস, মুরগি ও অন্যান্য পাখির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। H5N1, H5N8-এর মতো বিভিন্ন স্ট্রেন এই রোগের জন্য দায়ী। এই ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে পারে, বিশেষ করে শীতকালে। আক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে এলে বা তাদের মলমূত্রের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মানুষের শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে। যদিও মানুষের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম, তবুও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মানুষের শরীরে কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে?
বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সাধারণ ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা যায়। যেমন—
- হঠাৎ জ্বর
- গলা ব্যথা
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা চোখে জ্বালা
- মাথাব্যথা
- শরীর ব্যথা
কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ার মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কোন কোন রাজ্যে বাড়ছে উদ্বেগ?
সম্প্রতি কেরল রাজ্যের আলাপ্পুজা ও কোট্টায়াম জেলায় একাধিক খামারে মুরগির মধ্যে H5N1 ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এর জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে হাজার হাজার মুরগি নিধনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পশুপালন দফতর ও স্বাস্থ্য দফতর যৌথভাবে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। যদিও এখনও সংক্রমণ কিছু নির্দিষ্ট জেলাতেই সীমাবদ্ধ, তবুও দ্রুত অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কেন শীতেই বাড়ে বার্ড ফ্লুর প্রকোপ?
প্রতিবছর শীতের মরশুম এলেই বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বাড়তে দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হল—
- শীতকালে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বাড়ে
- ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভাইরাস বেশি সময় সক্রিয় থাকে
- পাখিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়
পরিযায়ী পাখির মাধ্যমেই অনেক সময় এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এই সময়ে মুরগির মাংস খাওয়া কি নিরাপদ?
এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালভাবে রান্না করা মুরগির মাংস খেলে সাধারণত ঝুঁকি থাকে না। তবে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে—
- কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ মুরগির মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
- মাংস কাটার আগে ও পরে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুতে হবে
- কাঁচা মাংস ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন
- ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ করে খান
যদি কোনও এলাকায় বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ ধরা পড়ে, সেই এলাকায় কিছুদিন মুরগির মাংস এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন—
- পোলট্রি খামারের কর্মীরা
- যাঁরা নিয়মিত হাঁস-মুরগি বা গবাদি পশুর সংস্পর্শে থাকেন
- পশুপাখির মলমূত্র পরিষ্কার করার কাজ করেন যাঁরা
এই সব ক্ষেত্রে গ্লাভস, মাস্ক ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসনের কী পদক্ষেপ?
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় পশু চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, বাজারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং খামারগুলিতে নিয়মিত স্যানিটাইজেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শেষ কথা
বার্ড ফ্লু নতুন কোনও রোগ নয়, কিন্তু অবহেলা করলে বিপদ বাড়তে পারে। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা—এই মুহূর্তে সেটাই সবচেয়ে জরুরি। খাবারদাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চললেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।



