Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যবিড়ি–সিগারেট–গুটখায় লাগল সরকারি লাগাম ! প্রকাশ্যে কিনে বা খাওয়া যাবে না নেশাজাত...

বিড়ি–সিগারেট–গুটখায় লাগল সরকারি লাগাম ! প্রকাশ্যে কিনে বা খাওয়া যাবে না নেশাজাত দ্রব্য ?

Biri Cigarette Ban : নেশাজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে এবার একেবারে কড়া অবস্থান নিল সরকার। জনস্বাস্থ্য রক্ষার লক্ষ্যে বিড়ি, সিগারেট, গুটখা, তামাক, খৈনি ও জর্দার মতো ক্ষতিকর সামগ্রীর উপর বড়সড় নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরেই প্রশ্ন উঠছে— রাস্তায় দাঁড়িয়ে খোলা বিড়ি-সিগারেট কেনা বা খাওয়া কি এবার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কবে থেকে? আর এই নিয়মে ঠিক কী কী নিষিদ্ধ করা হয়েছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তোলপাড় সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী মহল।


🚫 জনস্বাস্থ্যে জোর, নেশার বিরুদ্ধে বড় সিদ্ধান্ত

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ওড়িশা সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে রাজ্যজুড়ে বিড়ি, সিগারেট, গুটখা, পানমশলা, তামাক, খৈনি ও জর্দা-সহ সমস্ত তামাকজাত এবং পানমশলাজাত পণ্যের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু বিক্রিই নয়—
➡️ উৎপাদন
➡️ প্যাকেজিং
➡️ পরিবহণ
➡️ মজুদ
➡️ খুচরো ও পাইকারি বিক্রি

সবকিছুই আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অর্থাৎ দোকানে, রাস্তায় বা গুদামে— কোথাওই এই ধরনের পণ্য রাখা বা বেচাকেনা করা যাবে না।


📜 স্বাস্থ্য দফতরের সরকারি বিজ্ঞপ্তি

ওড়িশার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্যাকেটজাত এবং খোলা— উভয় ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের উপরই প্রযোজ্য হবে

সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে—
“যে কোনও রূপে তামাক বা পানমশলা জাতীয় দ্রব্য তৈরি, বিক্রি, সংরক্ষণ বা বিতরণ আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।”

এর ফলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খোলা বিড়ি বা গুটখা বিক্রির মতো দৃশ্যও আর দেখা যাবে না।


😟 মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

এই ঘোষণার পরেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন বিড়ি, সিগারেট ও গুটখা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। অনেক ক্ষুদ্র দোকানদার জানিয়েছেন, এই ধরনের নেশাজাত দ্রব্যই তাঁদের আয়ের প্রধান উৎস।

ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য,
“হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্তে আমরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ব। বিকল্প রুজির ব্যবস্থা না হলে বহু পরিবার সমস্যায় পড়বে।”

তবে সরকার জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।


🧠 কেন এত কড়া পদক্ষেপ?

স্বাস্থ্য বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ তামাকজাত দ্রব্যের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে—
✔️ গুটখা, খৈনি, জর্দা মুখগহ্বর ক্যান্সারের প্রধান কারণ
✔️ সিগারেট ও বিড়ি ফুসফুস ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
✔️ দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও পাকস্থলীতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC) আগেই এই ধরনের পণ্যকে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।


📊 উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
ওড়িশায় প্রায় ৪২ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়,
👉 শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই অভ্যাস
👉 মৌখিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে
👉 কম বয়সেই জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতেই সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


⚖️ আইনি ভিত্তি কতটা মজবুত?

স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে,
এই নিষেধাজ্ঞা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)–এর নিয়ম এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই কার্যকর করা হয়েছে।

এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক বলেন,
“সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং কেন্দ্রীয় আইন এই নিষেধাজ্ঞাকে আইনি দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে। আইন ভাঙলে কড়া শাস্তির ব্যবস্থাও থাকবে।”


🔍 উপসংহার

সব মিলিয়ে বলা যায়, নেশাজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে ওড়িশা সরকারের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে তেমনই ব্যবসায়ীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই নিয়ম বাস্তবে কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হয় এবং অন্যান্য রাজ্যও কি একই পথে হাঁটে— সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments