BJP West Bengal : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও তুঙ্গে উত্তেজনা। বিধানসভা ভোট এখনও কিছুটা দূরে হলেও, তার অনেক আগেই রাজ্য জুড়ে শক্তি প্রদর্শনে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী ১ মার্চ থেকেই রাজ্যব্যাপী শুরু হতে চলেছে বিজেপির বহু প্রতীক্ষিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’। লক্ষ্য একটাই—বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে উৎখাত করা।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক যাত্রা নয়, বরং বাংলার মানুষের সামনে ‘শাসন পরিবর্তন’-এর রোডম্যাপ তুলে ধরার এক বৃহৎ প্রচেষ্টা।
১০ দিনে ৫,০০০ কিলোমিটার—পরিকল্পনা কতটা বড়?
বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ চলবে টানা ১০ দিন। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের আনাচে-কানাচে পৌঁছতে ৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করবে যাত্রা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে আয়োজন করা হবে ৬৪টি বড় জনসভা এবং ৩০০-র বেশি ছোট সমাবেশ।
কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্বে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ আয়োজন করা হবে এক বিশাল জনসভা। সেখানে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র। বিজেপি শিবিরের মতে, এই সভাই হবে বাংলায় তাদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ।
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি: ‘তৃণমূল প্রায় ক্ষমতা হারাতে বসেছে’
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যে পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো জনমত তৈরি হবে। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেস সরকার প্রায় ক্ষমতা হারানোর মুখে। রাজ্যে এমন কোনও রাজনৈতিক শক্তি নেই, যারা আবার তাদের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে পারবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ২০১১ সালে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, গত ১৫ বছরে তার ফলাফল রাজ্যের মানুষ নিজের চোখেই দেখেছেন। বিজেপির অভিযোগ—এই সময়ে রাজ্যে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ঘটনা বেড়েছে।
কোথা থেকে শুরু ‘পরিবর্তন যাত্রা’?
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ ও ২ মার্চ রাজ্যের মোট নয়টি স্থান থেকে একযোগে যাত্রার সূচনা হবে।
১ মার্চ যাত্রা শুরু হবে—
- কোচবিহার দক্ষিণ
- কৃষ্ণনগর
- কুলটি
- গড়বেতা
- রায়দিঘি
২ মার্চ শুরু হবে—
- ইসলামপুর
- সন্দেশখালি
- আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল থেকে
এই সূচনাপর্বে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।
হোলির বিরতি, তারপর আরও জোরদার প্রচার
৩ ও ৪ মার্চ হোলি উৎসব উপলক্ষে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এরপর ফের পূর্ণোদ্যমে শুরু হবে প্রচার অভিযান। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রা যে বিধানসভা কেন্দ্র দিয়ে যাবে, তার পরদিন সেখানেই একটি বড় জনসভা করা হবে।
লক্ষ্য—১০ মার্চের মধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
সংগঠন চাঙ্গা করতে সল্টলেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
এই কর্মসূচিকে সফল করতে ইতিমধ্যেই সংগঠন স্তরে তৎপর বিজেপি। সল্টলেকে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডাকা হয় বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।
বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়—
- পরিবর্তনের বার্তা আরও জোরালো করা
- বুথ স্তরের সংগঠন মজবুত করা
- রাজ্যজুড়ে শক্তিপ্রদর্শনের প্রস্তুতি
তবে দলীয় অন্দরেও স্বীকার করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী হলেও সেই আত্মবিশ্বাস তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন একটাই—বাংলার মন জয় করতে পারবে তো?
বিজেপি যতই বড় কর্মসূচির কথা বলুক না কেন, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে আসল লড়াই হবে বাংলার মানুষের মন জয় করার। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নেতাদের সভা বা যাত্রা যথেষ্ট নয়—স্থানীয় ইস্যু, সংগঠন এবং বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প কতটা তুলে ধরা যায়, সেটাই ঠিক করবে ফলাফল।
মার্চ থেকেই শুরু হওয়া এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ আদৌ কি বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলাতে পারবে, নাকি এটি আরও একবার শক্তিপ্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকবে—সেই উত্তর দেবে সময়ই।



