দুর্গাপুরের বুদবুদ এলাকায় বালি চুরির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ করতেই ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। আতঙ্কে ভুগছে অভিযোগকারীর পরিবার। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বুদবুদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারকেও ই-মেল মারফত জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী কৌশিক মাজি বিজেপির পূর্ব বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার মিডিয়া সেলের ইনচার্জ। তাঁর স্ত্রী বর্ণালী মাজি চাকতেতুল গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত বিজেপি সদস্যা।
কী নিয়ে শুরু বিতর্ক?
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বুদবুদের চাকতেতুল পঞ্চায়েতের অধীন একাধিক এলাকায়—বিশেষ করে সাকুড়ি, শালডাঙ্গা, চাকতেতুল সংলগ্ন রণডিহার দামোদর নদ এলাকায়—দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বালি তোলার অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দিনের পর দিন নদী থেকে বালি তুলে মজুত করা হচ্ছে এবং রমরমিয়ে চলছে বালি কারবার।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে কৌশিক মাজি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে নদী থেকে বালি তোলার কিছু ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি প্রকাশ্যে অবৈধ বালি চুরির বিরুদ্ধে সরব হন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টের পরেই হুমকি?
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্ট প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই কৌশিক মাজির মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বলা হয়, বালি চুরির বিষয়ে মুখ খুললে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে “ভোগান্তি” পোহাতে হবে।
এই হুমকির পরেই আতঙ্কে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। কৌশিক মাজির স্ত্রী তথা বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা বর্ণালী মাজির অভিযোগ, নিরাপত্তার অভাবে তাঁরা আপাতত রণডিহা গ্রাম ছেড়ে দুর্গাপুর শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।
পুলিশের দ্বারস্থ বিজেপি নেতা
ঘটনার পর বুদবুদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের পুলিশ কমিশনারের কাছেও মেল মারফত বিস্তারিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমকি দেওয়া ফোন নম্বরটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কল ডিটেলস এবং নম্বরের অবস্থান বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানাতে চাইছে না।
বিজেপির অভিযোগ: শাসক দলের মদত ছাড়া সম্ভব নয়
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। বিজেপির তরফে কৌশিক মাজির দাবি,
“শাসক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছাড়া এত বড় মাপের বালি মাফিয়াদের দাপট সম্ভব নয়। আমরা শুধু সত্যটা সামনে এনেছি, আর তার জেরেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
বিজেপির আরও অভিযোগ, যারা অবৈধ বালি কারবারে যুক্ত, তারাই ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদীদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। গলসি এক নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি জনার্দন চ্যাটার্জির দাবি,
“এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসআইআর ইস্যুতে বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। তাই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তৃণমূলকে বদনাম করা হচ্ছে। আসলে বালি কারবারে বিজেপিরই কিছু নেতা যুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে, সত্য সামনে আসবেই।
এলাকা জুড়ে উত্তেজনা
সব মিলিয়ে বুদবুদ এলাকায় এখন চরম উত্তেজনা। একদিকে বালি চুরি নিয়ে অভিযোগ, অন্যদিকে প্রাণনাশের হুমকি—সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কে বা কারা ফোন করে হুমকি দিল, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।



