Second Hand Mobile : না বুঝে সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল ফোন কিনে কি নিজেকেই বিপদে ফেলছেন? কম দামে ভালো স্মার্টফোন পাওয়ার লোভে অনেকেই পুরনো ফোন কেনেন। কিন্তু জানেন কি, সেই ফোন যদি চোরাই হয়, তাহলে আপনাকে জেল-জরিমানা পর্যন্ত গুনতে হতে পারে? এমনকি অজান্তেই চোরাই ফোন ব্যবহার করলেও আইন অনুযায়ী আপনি অপরাধী হিসেবে গণ্য হতে পারেন।
বর্তমান সময়ে প্রায় প্রত্যেকের হাতেই স্মার্টফোন। নতুন ডিজাইন, উন্নত ক্যামেরা আর আধুনিক ফিচারের লোভে অনেকেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফোন বদলান। ফলে বাজারে সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের জোগানও বাড়ছে। নতুন ফোনের তুলনায় পুরনো ফোনের দাম অনেক কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই ফোনগুলি বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বড় বিপদ।
কেন সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনা ঝুঁকিপূর্ণ?
যদি আপনি পরিচিত কোনও মানুষ—বন্ধু, আত্মীয় বা পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে পুরনো ফোন কেনেন, তাহলে ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কিন্তু অচেনা দোকান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা রাস্তাঘাটে কম দামে ফোন বিক্রি করা ব্যক্তির কাছ থেকে ফোন কিনলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা বহু গুণ বেড়ে যায়।
অনেক ক্ষেত্রেই চোরাই মোবাইল ফোন নতুনের মতো সাজিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়। বাহ্যিকভাবে ফোন একদম ঠিকঠাক থাকায় সাধারণ ক্রেতার পক্ষে বোঝা প্রায় অসম্ভব যে ফোনটি চুরি করা। কিন্তু সমস্যার শুরু হয় যখন সেই ফোনের আসল মালিক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
চোরাই ফোন ব্যবহার করলে কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন?
একবার চোরাই ফোন ব্যবহার শুরু করলে আপনি সরাসরি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারেন। পুলিশের তদন্তে IMEI নম্বর ট্র্যাক করে ফোনটির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। তখন ফোনটি যার কাছে পাওয়া যাবে, তাকেই প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হবে।
অনেকে ভাবেন, “আমি তো জানতাম না ফোনটা চোরাই”—কিন্তু আইন এই যুক্তি মানে না। অজান্তে চোরাই সম্পত্তি ব্যবহার করলেও তা দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে থানায় ডাক, জিজ্ঞাসাবাদ, এমনকি গ্রেপ্তারও হতে পারে।
আরও বড় সমস্যা হল, চোরাই ফোন চক্রের সঙ্গে যুক্ত দালালরা অনেক সময় ফোনের IMEI নম্বর বদলে দেয়। একাধিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারা এই নম্বর পরিবর্তন করে দেয়, যাতে পুলিশ সহজে ট্র্যাক করতে না পারে। এতে ভবিষ্যতে ফোনটি ব্লক হয়ে গেলে বা নেটওয়ার্ক কাজ না করলে আপনি বড় সমস্যায় পড়বেন।
IMEI নম্বর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
IMEI (International Mobile Equipment Identity) নম্বর হল প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি ইউনিক পরিচয় নম্বর। এই নম্বরের মাধ্যমেই জানা যায় ফোনটি বৈধ না অবৈধ, চুরি হওয়া কিনা বা পুলিশের ব্ল্যাকলিস্টে রয়েছে কি না।
এই কারণেই পুরনো ফোন কেনার আগে IMEI নম্বর যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

সরকারের কড়া নির্দেশিকা
টেলিযোগাযোগ দফতরের জারি করা একটি সার্কুলার অনুযায়ী, এখন থেকে কোনও মোবাইল ফোন কেনা বা বিক্রির আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও বিক্রেতাকে সরকারি অনুমোদিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ফোনের IMEI নম্বর পরীক্ষা করতে হবে।
ওয়েবসাইটে IMEI নম্বর দিলে জানা যাবে—
- ফোনটি চুরি হওয়া কিনা
- পুলিশ বা প্রশাসনের ব্ল্যাকলিস্টে আছে কিনা
- ফোনটি বৈধভাবে ব্যবহারযোগ্য কি না
সরকারি নির্দেশিকায় সাধারণ মানুষকে দু’টি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রথমত, চোরাই ফোন ব্যবহার করতে ধরা পড়লে “জানি না” বা “ওয়েবসাইট দেখিনি”—এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
দ্বিতীয়ত, যদি আপনার ফোন চুরি হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত নিকটবর্তী থানায় অভিযোগ জানিয়ে IMEI নম্বর ব্ল্যাকলিস্ট করার আবেদন করতে হবে। এই সুবিধা এখন সারা দেশজুড়েই কার্যকর।
কীভাবে IMEI নম্বর চেক করবেন?
চোরাই ফোন থেকে বাঁচতে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন—
- আপনার ফোনে *#06# ডায়াল করুন। স্ক্রিনে IMEI নম্বর ভেসে উঠবে।
- এবার ব্রাউজারে গিয়ে www.imei.info ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- সেখানে ফোনের IMEI নম্বর লিখে সার্চ করুন।
- সঙ্গে সঙ্গে ফোনের মডেল, নির্মাণের সময়, ব্র্যান্ড এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য দেখাবে।
যদি দেখেন—
- কোনও তথ্যই আসছে না
- অথবা দেখানো তথ্য আপনার ফোনের সঙ্গে মিলছে না
তাহলে বুঝে নিন ফোনটি সন্দেহজনক বা চোরাই হতে পারে। এই অবস্থায় সেই ফোন ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের।
শেষ কথা
কম দামে ফোন পাওয়ার লোভে পড়ে ভবিষ্যতের ঝামেলা ডেকে আনবেন না। সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার আগে একটু সতর্ক হলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। মনে রাখবেন, একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনাকে আইনি ঝামেলা, আর্থিক ক্ষতি এবং মানসিক চাপের মুখে ঠেলে দিতে পারে।



