Debit Card Scam : বর্তমান সময়ে নগদ টাকার ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। কেনাকাটা, বিল পেমেন্ট, হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে ছোটখাটো লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই এখন ভরসা ডেবিট কার্ড। কার্ড ব্যবহার যেমন সহজ, তেমনই দ্রুত। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা। সামান্য অসতর্কতা, কিংবা ভুল জায়গায় একবার ডেবিট কার্ড ব্যবহার করলেই মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যেতে পারে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঞ্চয়।
প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সামনে আসছে ডেবিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা। কারও অজান্তেই কেটে যাচ্ছে হাজার হাজার টাকা, আবার কারও ক্ষেত্রে রাতারাতি শূন্য হয়ে যাচ্ছে অ্যাকাউন্ট। তাই সময় থাকতেই জেনে নেওয়া জরুরি—কোন কোন জায়গায় ভুলেও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা উচিত নয়।
১) পেট্রোল পাম্প ও গ্যাস স্টেশন
পেট্রোল পাম্প বা গ্যাস স্টেশনে কার্ড ব্যবহারের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে। কারণ এখানে থাকা কার্ড সোয়াইপ মেশিনগুলি অনেক সময় কর্মীদের চোখের আড়ালে থাকে। এই সুযোগেই প্রতারকরা আসল কার্ড রিডারের উপর নকল স্কিমার ডিভাইস বসিয়ে দেয়।
এই স্কিমার আপনার কার্ডের নম্বর, এক্সপায়ারি ডেট এবং এমনকি পিন পর্যন্ত চুরি করে নিতে পারে। একবার পিন চলে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পেট্রোল পাম্পে সম্ভব হলে নগদ টাকা বা UPI ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
২) রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে
রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর বিল মেটাতে অনেকেই কার্ড ওয়েটারের হাতে তুলে দেন। এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বড় ঝুঁকি। কারণ কার্ডটি কিছুক্ষণের জন্য আপনার চোখের আড়ালে চলে যায়। এই সময়ের মধ্যেই কার্ডের ছবি তোলা, তথ্য নোট করা বা পকেট স্কিমারের মাধ্যমে ডেটা কপি করা সম্ভব।
সব কর্মী অসৎ নন, কিন্তু একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনাকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। নিরাপদ থাকতে চাইলে রেস্টুরেন্টে সবসময় নিজের সামনে কার্ড সোয়াইপ করান অথবা UPI/QR কোডে পেমেন্ট করুন।
৩) হোটেল বুকিং ও গাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময়
অনেক হোটেল ও গাড়ি ভাড়া সংস্থা চেক-ইনের সময় নিরাপত্তার জন্য ডেবিট কার্ডে প্রি-অথরাইজেশন হোল্ড করে। অর্থাৎ টাকা কাটা না হলেও আপনার অ্যাকাউন্টের একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক ব্লক করে রাখা হয়।
এই ব্লক করা টাকা কয়েক দিন বা কখনও কখনও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় না। এর ফলে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালান্স থাকা সত্ত্বেও অন্য জায়গায় পেমেন্ট ফেল হতে পারে। এই ধরনের জায়গায় ডেবিট কার্ডের বদলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ।
৪) রাস্তার পাশে বা লোকাল এটিএম
সব এটিএম সমান নিরাপদ নয়। রাস্তার ধারে বা লোকাল এলাকায় থাকা অনেক এটিএমে নজরদারি কম থাকে। অনেক সময় সেখানে CCTV ঠিকমতো কাজ করে না বা একেবারেই থাকে না। এই ধরনের এটিএমে স্কিমার লাগানো খুব সহজ।
এছাড়া কিছু পুরনো এটিএম মেশিনে ডেটা এনক্রিপশনও দুর্বল হয়। ফলে কার্ড ইনফরমেশন চুরি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রয়োজনে সবসময় ব্যাংকের ব্রাঞ্চের ভিতরে থাকা এটিএম ব্যবহার করুন।
৫) নতুন বা অচেনা ওয়েবসাইটে অনলাইন পেমেন্ট
নতুন বা অজানা ওয়েবসাইটে ডেবিট কার্ডের তথ্য দেওয়া মানে কার্যত নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের দরজা খুলে দেওয়া। যদি সেই সাইট হ্যাক হয় বা ভুয়ো হয়, তাহলে টাকা সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকাউন্ট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
ক্রেডিট কার্ডে অনেক সময় জালিয়াতি সুরক্ষা পাওয়া যায় এবং চার্জব্যাকের সুযোগ থাকে। কিন্তু ডেবিট কার্ডে টাকা কেটে গেলে তা ফেরত পাওয়ার লড়াইটা আপনাকেই করতে হয়। তাই অনলাইন শপিংয়ের সময় ক্রেডিট কার্ড, UPI বা ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ডেবিট কার্ড নিরাপদ রাখতে কিছু জরুরি টিপস
- কখনও কারও সঙ্গে নিজের পিন শেয়ার করবেন না
- নিয়মিত ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও SMS অ্যালার্ট চেক করুন
- অচেনা কল বা মেসেজে কার্ড সংক্রান্ত তথ্য দেবেন না
- প্রয়োজন না হলে আন্তর্জাতিক লেনদেন বন্ধ রাখুন
- সন্দেহজনক লেনদেন দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকে জানান
উপসংহার
ডেবিট কার্ড নিঃসন্দেহে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু অসতর্ক হলে এই সুবিধাই হয়ে উঠতে পারে বড় বিপদের কারণ। তাই কোথায় কার্ড ব্যবহার করবেন আর কোথায় করবেন না—এই বিষয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। একটু সাবধানতা আপনাকে হাজার হাজার টাকার ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে।



