Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeসিনেদুনিয়াসবকিছুর জন্য দায়ী সায়ক, সায়কের জন্যই আজ দেবলীনা প্রবাহর সংসারে এতো বড়ো...

সবকিছুর জন্য দায়ী সায়ক, সায়কের জন্যই আজ দেবলীনা প্রবাহর সংসারে এতো বড়ো ভাঙন ?

Debolina Nandi : গায়িকা দেবলীনা নন্দীর সাম্প্রতিক চরম সিদ্ধান্তের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। একের পর এক মন্তব্য, অভিযোগ আর কটাক্ষে ভরে উঠেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। সেই সমস্ত মন্তব্যের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নাম— সায়ক চক্রবর্তী। কেউ বলছেন, দেবলীনার সংসারে ভাঙনের নেপথ্যে সায়কই দায়ী, কেউ আবার দাবি করছেন, বন্ধুর বিপদের মুহূর্তকে ‘কনটেন্ট’ বানাচ্ছেন তিনি। যদিও এগুলোর কোনওটিই আমাদের বক্তব্য নয়, তবুও বাস্তবতা হল—এই সব মন্তব্যই এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

দেবলীনা ও সায়কের বন্ধুত্ব নতুন নয়। বহু বছর ধরেই তাঁদের বন্ধুত্বের কথা ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে পরিচিত। একাধিক মিউজিক ভিডিও, ভ্লগ ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। সেই বন্ধুত্বকে ঘিরেই আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছেন সায়ক। দেবলীনার জীবনে ঘটে যাওয়া এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোই কি তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়াল?


সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন এত আক্রমণ?

দেবলীনা আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় নানা জল্পনা শুরু হয়। অনেকেই ধরে নেন, দেবলীনাকে ঘিরে সায়কের উপস্থিতিই নাকি সংসার ভাঙনের অন্যতম কারণ। এমনকি কিছু মন্তব্যে বলা হয়— “যেখানে ডিভোর্স, সেখানে সায়ক”। টেনে আনা হয় তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়ও, এমনকি দাদা-বউদির বিচ্ছেদের প্রসঙ্গও।

এই সমস্ত মন্তব্যে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন অভিনেতা। কারণ, তিনি দাবি করছেন—বন্ধু হিসেবে পাশে থাকা ছাড়া তাঁর আর কোনও ভূমিকা নেই।


সায়কের স্পষ্ট বক্তব্য কী?

সব জল্পনার মাঝেই অবশেষে মুখ খুলেছেন সায়ক চক্রবর্তী। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন—

“যাঁরা ভাবছেন দেবলীনার সম্পর্ক বা বিয়ে ভাঙার পেছনে আমি, তাঁদের উদ্দেশে একটাই কথা—আমি যদি ওকে অন্যভাবে ভালোবাসতাম, তাহলে ওর বিয়েতে গিয়ে নাচতাম? তাহলে তো বিয়েটা ভাঙার প্ল্যান করতাম। ও আমার বন্ধু, এর বেশি কিছু নয়।”

এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, নিজের অবস্থান নিয়ে কোনও রাখঢাক করেননি অভিনেতা।


দেবলীনার পাশে থাকা কি অপরাধ?

দেবলীনা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁকে দেখতে যান সায়ক। সেখান থেকেই একটি ভিডিও করেন তিনি, যেখানে জানান—দেবলীনা শারীরিকভাবে স্থিতিশীল হলেও মানসিকভাবে এখনও ভীষণ ভেঙে পড়েছেন। এই ভিডিও নিয়েই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। একাংশের দাবি, ব্যক্তিগত পরিস্থিতিকে কনটেন্টে রূপ দেওয়া অনুচিত।

এই প্রসঙ্গে সায়ক বলেন, তিনি কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কিছু করেননি। তাঁর মতে, ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধ করতেই তিনি সেই ভিডিও করেছিলেন।


দেবলীনাকে নিয়ে সায়কের মতামত

যদিও বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি অনড়, তবুও দেবলীনার চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে সায়ক সরাসরি বলেন—

“দেবলীনা যা করেছে, সেটা ভুল। লাইভ এসে এভাবে জীবন শেষ করার কথা বলা উচিত হয়নি। এতে সমাজে খারাপ প্রভাব পড়ে। এমন অবস্থায় আইনি সাহায্য বা চিকিৎসকের কাউন্সেলিং জরুরি, জীবন শেষ করার কথা ভাবা একদমই উচিত না।”

এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বন্ধুকে সমর্থন করলেও সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি।


ঘটনার পেছনের বাস্তবতা

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবলীনা প্রায় ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। এরপরই প্রথম ফোন করেন সায়ককে। দ্রুত চিকিৎসার ফলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

এই ঘটনার পর কেউ কেউ বলছেন, দেবলীনার স্বামীর বক্তব্যও শোনা উচিত। আবার অনেকের মতে, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সত্যি কোথায়, দায় কার—তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটাই বিষয় পরিষ্কার, এই ঘটনায় একাধিক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব পড়েছে।


শেষ কথা

এই মুহূর্তে দোষারোপ নয়, সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল দেবলীনা নন্দীর দ্রুত আরোগ্য। তিনি যেন মানসিকভাবে শক্ত হয়ে আবার নিজের জীবনে, নিজের গানে ফিরে আসতে পারেন—এই কামনাই করছেন তাঁর অনুরাগীরা। স্টেজে আবার সেই মিষ্টি, সুরেলা কণ্ঠে গান শুনতে মুখিয়ে রয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

বন্ধুত্ব, সমর্থন আর সহানুভূতিকে যেন ট্রোলের চোখে না দেখা হয়—এই ঘটনাই হয়তো সেটাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments