Terror Attack India : রাজধানী দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফের কঠোর করা হয়েছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, একের পর এক ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা চালিয়ে রাজধানীতে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার পরই এবার মন্দিরকে লক্ষ্য করে নাশকতার ছক কষা হচ্ছে—এমনই দাবি একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্টে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি ভারতের রাজধানীকে টার্গেট করে নতুন করে নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে। এই আশঙ্কার জেরে দিল্লি জুড়ে জারি করা হয়েছে হাই এলার্ট। গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর টহল।
২০১৪ সালের পর ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি
২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন Narendra Modi। তাঁর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বারবার তুলে ধরেছে। সীমান্তে কড়া পদক্ষেপ, জঙ্গি ঘাঁটিতে অভিযান এবং কূটনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে সন্ত্রাস দমনে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সময়কালের মধ্যেই দেশকে একাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাক্ষী হতে হয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলওয়ামা থেকে পাহালগাম—একাধিক রক্তক্ষয়ী হামলা
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ঘটে Pulwama Attack। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ জওয়ানদের কনভয় লক্ষ্য করে আত্মঘাতী গাড়ি বিস্ফোরণে শহিদ হন ৪০ জন জওয়ান। এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন Jaish-e-Mohammed। এই ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে পড়ে।
এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার ডাংরি গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবর্ষণ ও আইইডি বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৭ জন সাধারণ নাগরিক। এই ঘটনাকে ঘিরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২০২৪ সালের ৯ জুন রিয়াসি এলাকায় তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি বাসে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। কাশ্মীর উপত্যকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়ে।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ঘটে Pahalgam হামলা। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পাহালগামে পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণে নিহত হন ২৬ জন। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে এই ঘটনাকে চিহ্নিত করা হয়।
রাজধানী দিল্লিতেও হামলার ছায়া
শুধু সীমান্তবর্তী রাজ্য নয়, রাজধানী দিল্লিও জঙ্গি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে Red Fort সংলগ্ন এলাকায় একটি গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একাধিক হতাহতের খবর সামনে আসে। তদন্তে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মেলে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়।
২০২৬ সালে নতুন হামলার আশঙ্কা?
এবার গোয়েন্দা সূত্রে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে দিল্লির চাঁদনি চক এলাকার একটি প্রাচীন মন্দিরকে লক্ষ্য করে হামলার ছক কষতে পারে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন Lashkar-e-Taiba। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট হামলার ঘটনা ঘটেনি, তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে মন্দির, মসজিদ, গির্জা-সহ সমস্ত ধর্মীয় স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা, বম্ব স্কোয়াড তৎপরতা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে
প্রতি বছর একের পর এক হামলার আশঙ্কা ও ঘটনা সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কতটা প্রস্তুত? যদিও প্রশাসনের দাবি, আগাম সতর্কতার কারণেই বহু হামলা রোখা সম্ভব হয়েছে, তবুও সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজধানী দিল্লির মতো সংবেদনশীল এলাকায় সামান্য গাফিলতিও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। ফলে আগামী দিনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার।



