Direct To Mobile : প্রতি মাসে মোবাইল রিচার্জের জন্য আলাদা করে টাকা খরচ করা—এই অভ্যাস কি এবার ইতিহাস হতে চলেছে? ফোনে ইন্টারনেট বা ওয়াইফাই ব্যবহার না করেই কি দেখা যাবে দেশ-বিদেশের ভিডিও, টিভি চ্যানেল কিংবা লাইভ খেলা? সম্প্রতি এমনই এক প্রযুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। নাম ‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ (Direct To Mobile বা D2M)।
এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক সাফল্যের খবর সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন কৌতূহল বেড়েছে, তেমনই ছড়িয়েছে নানা গুজব। কেউ বলছেন, এতে নাকি ৫জি পরিষেবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। আবার কারও দাবি, দীর্ঘ সময় ফোনে টিভি দেখলে মোবাইল অতিরিক্ত গরম হয়ে বিকল হয়ে যেতে পারে। এমনকি কিছু টেলি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তারা নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রাহকদের ভুল তথ্য দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।
কিন্তু এই সব দাবির মধ্যে কতটা সত্য, আর কতটাই বা গুজব? চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কী এই ডিরেক্ট টু মোবাইল (D2M) প্রযুক্তি?
ডিরেক্ট টু মোবাইল হল এমন এক আধুনিক সম্প্রচার প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট বা ডেটা সংযোগ ছাড়াই মোবাইল ফোনে ভিডিও ও টিভি কনটেন্ট দেখা সম্ভব। এই প্রযুক্তিতে মোবাইল নেটওয়ার্কের বদলে ব্যবহার করা হয় ব্রডকাস্ট টাওয়ার ও স্যাটেলাইট সিগন্যাল। ঠিক যেমনভাবে টিভিতে ডিশ অ্যান্টেনার মাধ্যমে চ্যানেল দেখা যায়, অনেকটা সেই রকমই।
ভারত সরকার ইতিমধ্যেই দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে এই পরিষেবা চালু করেছে। পরীক্ষার ফলাফল সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
৫জি ধ্বংস হয়ে যাবে—এই দাবি কি সত্যি?
গ্যাজেট বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ডিরেক্ট টু মোবাইল এবং ৫জি—এই দুই প্রযুক্তি একে অপরের বিকল্প নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক।
৫জি মূলত হাই-স্পিড ইন্টারনেট, ভিডিও কল, অনলাইন গেমিং ও ক্লাউড সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে D2M ব্যবহার হবে লাইভ টিভি, সংবাদ, খেলা এবং নির্দিষ্ট ভিডিও সম্প্রচারের জন্য। ফলে একটি প্রযুক্তি চালু হলেই অন্যটি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনও বাস্তব সম্ভাবনা নেই।
ফোন গরম হয়ে নষ্ট হবে—গুজব না সত্য?
এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে প্রসার ভারতী। তাদের প্রকাশিত ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিরেক্ট টু মোবাইল প্রযুক্তিতে টানা তিন ঘণ্টা মোবাইলে টিভি দেখার পরেও ফোনের তাপমাত্রা ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
এমনকি ফোনের নেটওয়ার্ক রিসিভার বা হার্ডওয়্যারের উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাবও পড়েনি। অর্থাৎ, ফোন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সম্পূর্ণ গুজব।
সরকার কী বলছে?
ডিরেক্ট টু মোবাইল প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একটি ডেডিকেটেড OTT প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এর মাধ্যমে সিনেমা, লাইভ স্পোর্টস, সংবাদ এবং অন্যান্য ভিডিও কনটেন্ট সম্প্রচার করা হচ্ছে, শুধুমাত্র ব্রডকাস্ট সিগন্যাল ব্যবহার করে।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গ্রামাঞ্চল ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় অত্যন্ত উপযোগী হতে পারে, যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল বা একেবারেই নেই।
তাহলে টেলিকম সংস্থাগুলির মাথাব্যথা কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিরেক্ট টু মোবাইল প্রযুক্তি যদি পূর্ণমাত্রায় চালু হয়, তাহলে জিয়ো, এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়ার মতো টেলি সংস্থাগুলির ডেটা ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ ভিডিও স্ট্রিমিংই বর্তমানে ডেটা ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশ।
এই কারণেই অনেকের অভিযোগ, কিছু টেলি সংস্থা পরিকল্পিতভাবে ভয় ছড়াচ্ছে, যাতে এই প্রযুক্তি জনপ্রিয় না হয়। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
ডিরেক্ট টু মোবাইল প্রযুক্তি সারা দেশে চালু হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে পরীক্ষার ফলাফল এবং প্রযুক্তিগত সাফল্য বলছে, ভবিষ্যতে মোবাইল বিনোদনের সংজ্ঞাই বদলে যেতে পারে। ইন্টারনেট ছাড়াই ভিডিও দেখার সুবিধা সাধারণ মানুষের খরচ যেমন কমাবে, তেমনই তথ্যপ্রাপ্তির পথও আরও সহজ করবে।



