খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। অনেকেই দেখছেন তাঁদের নাম তালিকায় নেই, আবার কেউ কেউ নাম থাকলেও নিশ্চিত নন—চূড়ান্ত তালিকায় তা থাকবে কি না। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, খসড়া তালিকা মানেই চূড়ান্ত তালিকা নয়। এই পর্যায়ে আরও যাচাই, শুনানি এবং আপত্তি গ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা জেনে নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ: বর্তমান অবস্থা
রাজ্যে SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার এনুমারেশন পর্ব শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই খসড়া তালিকায় আপাতত ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জন ভোটারের নাম রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। অর্থাৎ সংখ্যা কমলেও কমিশন এখনও নিশ্চিত নয় যে খসড়া তালিকায় থাকা প্রত্যেকেই বৈধ ভোটার।
খসড়া তালিকায় নাম থাকলেই কি নিশ্চিন্ত?
না। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় নাম থাকা মানেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম নিশ্চিত নয়। আগামী প্রায় দু’মাস ধরে চলবে খুঁটিয়ে যাচাই, আপত্তি গ্রহণ ও শুনানি প্রক্রিয়া। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
আপত্তি ও অভিযোগ জানাবেন কীভাবে?
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে আপত্তি বা অভিযোগ জানানোর পর্ব।
- আজ থেকে আগামী এক মাস ভোটাররা নিজেদের এলাকার BLO (Booth Level Officer)-র কাছে খসড়া তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন।
- এই আপত্তি গ্রহণের সময়সীমা চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় স্কুলের ঘর ব্যবহার করার জন্য চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে অভিযোগ গ্রহণ ও যাচাইয়ের কাজ নির্বিঘ্নে করা যায়।

শুনানি প্রক্রিয়া কীভাবে হবে?
যাঁদের ক্ষেত্রে কমিশন মনে করবে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন, তাঁদের ডাকা হবে শুনানিতে।
- ERO (Electoral Registration Officer) যদি প্রয়োজন মনে করেন, সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে।
- সেই ক্ষেত্রে BLO বাড়িতে গিয়ে নোটিস পৌঁছে দেবেন।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপত্তি, শুনানি এবং ভেরিফিকেশন পর্ব।
খসড়া তালিকায় নাম নেই? কী করবেন?
যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় নেই, তাঁদের নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে হবে।
এই ক্ষেত্রে করণীয়—
- পূরণ করতে হবে ফর্ম ৬
- এর সঙ্গে আরও একটি অতিরিক্ত ফর্ম দিতে হবে, যা দেখতে অনেকটা এনুমারেশন ফর্মের মতো
- ওই ফর্মে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে
যাঁরা আগে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
শুনানির ডাক না এলে কী করবেন?
অনেকেরই প্রশ্ন—খসড়া তালিকায় নাম নেই, অথচ শুনানির জন্য কোনও নোটিসও এল না।
এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী—
- ফর্ম ৬-এর সঙ্গে অ্যানেক্সার ৪ পূরণ করে নতুন করে আবেদন করতে হবে
- সরাসরি BLO বা নির্ধারিত অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে এই আবেদন জমা দেওয়া যাবে
কারা শুনানিতে ডাক পাবেন?
কমিশন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু মাপকাঠির ভিত্তিতে শুনানির জন্য ভোটারদের নির্বাচন করা হবে।
- প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে বাধ্যতামূলকভাবে শুনানিতে ডাকা হবে
- বাকি এক কোটিরও বেশি ভোটারের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুজনকে ডাকা হতে পারে
- বিশেষ করে যাঁদের ২০০২ ও ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার মধ্যে মিল পাওয়া যায়নি অথবা যাঁদের নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে
খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে—এই পর্যায়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। নিয়ম মেনে আবেদন, আপত্তি ও শুনানির সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে। সময়সীমার মধ্যে সঠিক পদক্ষেপ নিলেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকবে।



