লকডাউনের আতঙ্ক আবারও ছড়িয়ে পড়ছে। কোভিড-১৯-এর সময়ের মতো বিশ্বব্যাপী থমকে যেতে পারে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কার্যক্রম। তবে এবার বিষয়টি আরও গুরুতর, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার মস্কোতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই সংঘাত কোভিডের মতো ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। পুতিনের বক্তব্য, “ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধ ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে সরবরাহ চেইন, উৎপাদন এবং পণ্যের পরিবহন ব্যাহত করছে। তেলের পাশাপাশি ধাতু ও সার খাতের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। যদি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তা অনেক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্থর করতে পারে।”
পুতিন আরও সতর্ক করেছেন যে, সংঘাতের প্রকৃত পরিণতি এখনই কেউ ঠিকভাবে আন্দাজ করতে পারছে না। তিনি বলেন, “যে কোনো পূর্বাভাস দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। করোনা মহামারীর ধাক্কা যেমন বিশ্বকে স্তব্ধ করেছিল, তেমনই এই জ্বালানি সংকটও বিশ্ব অর্থনীতিকে চরমভাবে প্রভাবিত করতে পারে।”
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এলপিজি ও গ্যাসের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও যানবাহন খাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভারতের মতো তেল-গ্যাসে আংশিকভাবে নির্ভরশীল দেশগুলোতে এই সংকট আরও প্রকটভাবে দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সংকটের কারণে সরকারের বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের “লকডাউন” শব্দটি ভাইরাল হচ্ছে। যদিও এটি সরাসরি করোনার মতো জনস্বাস্থ্য লকডাউন নয়, তবে এক ধরনের “এনার্জি লকডাউন” নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। অর্থাৎ, জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য এবং রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়ার কারণে এই জল্পনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা এবং জ্বালানি বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন। তাদের মতে, মানুষকে বাড়িতে থেকে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে, হাইওয়েতে যানবাহনের গতিবেগ সীমিত করতে হবে, গণপরিবহন ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং শিল্প খাতে জ্বালানি খরচ কমাতে হবে। ইতিমধ্যে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপিন্স এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো একই ধরনের সতর্কতা বা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে, অনেকে মনে করছেন, এনার্জি লকডাউন বাস্তবায়িত হলে সমাজকে তাদের জ্বালানি ব্যবহারের পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুৎ বা গ্যাস নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পুতিনের সতর্কবার্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার এবং সরকারের পদক্ষেপ নিরীক্ষণ করলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রাখা সম্ভব।
সংক্ষেপে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বকে সতর্ক থাকার জন্য বার্তা দিচ্ছে। কোভিডের মতো সবকিছু থেমে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও, এনার্জি লকডাউন বাস্তবায়িত হলে তা অর্থনীতি, যাতায়াত, উৎপাদন এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নাগরিকদের সচেতন হওয়া, জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।



