Facebook Cyber Crime : ফেসবুক আজ আর শুধু একটি সামাজিক মাধ্যম নয়—এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নেওয়া থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে শেষবার স্ক্রল করা—সবটাই যেন ফেসবুককেন্দ্রিক। কোথায় খেতে গেলেন, কোথায় ঘুরলেন, কার সঙ্গে দেখা হল, কী ভাবছেন—সব কিছুই মুহূর্তের মধ্যে পোস্ট হয়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কিন্তু জানেন কি, এই নিরীহ মনে হওয়া পোস্ট, কমেন্ট বা শেয়ারই একদিন আপনাকে জেলে পাঠাতে পারে? শুধু তাই নয়, একটি ভুল ক্লিক বা অসতর্ক শেয়ারের কারণে ফাঁকা হয়ে যেতে পারে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন—ফেসবুক ব্যবহার করতে হলে জানতে হবে কোনটা করা যাবে আর কোনটা একেবারেই নয়।
🚨 ফেক প্রোফাইল খুললেই বিপদ
অনেকেই মজা বা প্রতিশোধের বশে অন্যের নাম, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। আবার কেউ কেউ জনপ্রিয় ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ফেক প্রোফাইল চালান। কিন্তু এটি নিছক মজা নয়—এটি একটি গুরুতর অপরাধ।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬সি (পরিচয় চুরি) এবং ৬৬ডি (অনলাইন প্রতারণা) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। তাই কখনওই অন্যের পরিচয়ে প্রোফাইল খুলবেন না।

📰 ভুয়ো খবর শেয়ার করলে আপনিও অপরাধী
ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি যে ভুলটি হয়, তা হল যাচাই না করে খবর শেয়ার করা। কোনও চাঞ্চল্যকর ভিডিও, রাজনৈতিক পোস্ট বা আবেগঘন খবর দেখেই অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার করে দেন। অথচ সেটি ভুয়ো বা বিকৃত তথ্যও হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, আপনি যদি জেনেশুনে বা অজান্তে ভুল তথ্য, গুজব বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ান, তাহলে আইটি আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় আপনার বিরুদ্ধেও মামলা হতে পারে। মনে রাখবেন—“শুধু শেয়ার করেছি” এই যুক্তি আদালতে ধোপে টিকবে না।
🔒 প্রাইভেসি ভাঙলে জেল অবধারিত
অনেকেই বন্ধু, পরিচিত বা সহকর্মীর ছবি কিংবা ভিডিও অনুমতি না নিয়েই ফেসবুকে পোস্ট করেন। আবার কারও ফোন নম্বর, ঠিকানা বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে দেন। এই ধরনের কাজ সরাসরি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ও ৬৭এ ধারায় এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেল ও জরিমানা—দুটোই হতে পারে। তাই কারও অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
🔥 উসকানিমূলক পোস্ট মানেই আইনি ঝুঁকি
জাতি, ধর্ম, ভাষা বা সম্প্রদায়কে আঘাত করে এমন পোস্ট বা কমেন্ট করলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। এই ধরনের কনটেন্টকে আইনত সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
অনেক সময় আবেগে পড়ে বা রাগের মাথায় লেখা একটি স্ট্যাটাস আপনার বিরুদ্ধে এফআইআর ডেকে আনতে পারে। তাই পোস্ট বা কমেন্ট করার আগে একবার ভেবে নিন—এই লেখাটি কি কাউকে উসকে দিচ্ছে?

💳 ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হওয়ার বড় কারণ ফেসবুক
এবার আসি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিকটিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুক মেসেঞ্জার বা ইনবক্সে আসা অজানা লিঙ্কে ক্লিক করাই সবচেয়ে বড় বিপদ। অনেক সময় এই লিঙ্কের মাধ্যমে ফিশিং অ্যাটাক হয়, যার ফলে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় ভুল হল—
- OTP শেয়ার করা
- ব্যাঙ্ক ডিটেইলস পাঠানো
- পাসওয়ার্ড দেওয়া
- ব্যক্তিগত ছবি অপরিচিতকে পাঠানো
এই ভুলগুলির ফলেই মুহূর্তে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যেতে পারে।
🛡️ নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
- ফেসবুক অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন
- সন্দেহজনক লিঙ্কে কখনও ক্লিক করবেন না
- অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন না
- নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন
⚠️ শেষ কথা
ফেসবুক যেমন যোগাযোগের মাধ্যম, তেমনই এটি একটি আইনি মাইনফিল্ড। একটু অসাবধানতাই আপনাকে জেল, মামলা বা আর্থিক সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করলে এই নিয়মগুলি অবশ্যই মেনে চলুন। সতর্ক থাকলে তবেই নিরাপদ থাকবেন।



