গঙ্গাসাগর মেলা মানেই বাংলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী দেশ-বিদেশ থেকে সমাগম করেন এই তীর্থক্ষেত্রে। সেই সুবিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যাতে কোনওভাবেই খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এবার সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গঙ্গাসাগর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গাসাগরে পৌঁছবেন। এর আগেই গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠক সেরে ফেলেছেন তিনি। তবে প্রশাসনিক পরিকল্পনা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা দেখতে নতুন বছরের শুরুতেই মাঠে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক
সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি গঙ্গাসাগরে পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, পরিবহণ, আবাসন, সাফাই ও বিপর্যয় মোকাবিলার মতো একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান উন্নত করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং নদী পারাপারের ব্যবস্থায় কোনও রকম ত্রুটি থাকছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখা হবে।
একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস
শুধু মেলা প্রস্তুতিই নয়, গঙ্গাসাগর সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন বলেও নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। গঙ্গাসাগরকে পর্যটন ও তীর্থকেন্দ্র হিসেবে আরও উন্নত করতে রাজ্য সরকার যে ধারাবাহিক পরিকল্পনা নিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই প্রকল্পগুলি চালু করা হবে।
স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এই প্রকল্পগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
মুড়িগঙ্গা নদীর উপর নতুন সেতুর সূচনা
এই সফরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল মুড়িগঙ্গা নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণের কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সাগর থেকেই এই সেতুর শিলান্যাস করবেন বলে আগেই জানিয়েছেন।
বর্তমানে গঙ্গাসাগর যেতে হলে পুণ্যার্থীদের মুড়িগঙ্গা নদী পার হতে ভেসেল বা লঞ্চের ওপর নির্ভর করতে হয়। মেলার সময় এতে দীর্ঘ অপেক্ষা, ভিড় এবং দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। নতুন সেতু নির্মাণ হলে এই সমস্যা অনেকটাই মিটবে।

সেতু নির্মাণের খরচ ও সময়সীমা
প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতুর কাজ শেষ করতে আনুমানিক চার বছর সময় লাগবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও আর্থিক সহায়তা নেই। রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজের খরচেই এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
নবান্নের বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র অর্থ না দিলেও গঙ্গাসাগরের উন্নয়নে রাজ্য কোনও আপস করবে না।
পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে আসবে বড় স্বস্তি
এই সেতু তৈরি হলে শুধু গঙ্গাসাগর মেলার সময়ই নয়, সারা বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। ভেসেলের উপর নির্ভরতা কমবে, সময় বাঁচবে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সেতু গঙ্গাসাগরের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা নেবে।
৬ জানুয়ারি কলকাতায় প্রত্যাবর্তন
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ৬ জানুয়ারি কলকাতায় ফিরে আসবেন। তার আগে গঙ্গাসাগরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবেন তিনি।
সব মিলিয়ে গঙ্গাসাগর মেলা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকায় আশাবাদী প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।



