LPG Dealership : বর্তমান সময়ে চাকরির অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসায় ঝুঁকি—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ এমন কোনও কাজ খুঁজছেন, যেখানে আয় স্থায়ী হবে এবং লসের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকবে। ঠিক এই জায়গাতেই সামনে আসছে একটি পরীক্ষিত ও চাহিদা-নির্ভর ব্যবসা—এলপিজি গ্যাস এজেন্সি। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ম মেনে শুরু করলে এই ব্যবসা থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে।
গ্যাস এমন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যার ব্যবহার শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই সারাবছর অপরিহার্য। রান্না হোক বা ছোট ব্যবসা, এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা কখনও কমে না। ফলে এই ব্যবসায় মন্দার আশঙ্কা খুবই কম বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
উজ্জ্বলা যোজনায় বেড়েছে চাহিদা
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার ফলে দেশের এলপিজি গ্রাহক সংখ্যায় বিপুল বৃদ্ধি ঘটেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজি সংযোগের সংখ্যা ৩৩ কোটিরও বেশি। এই বিপুল গ্রাহকভিত্তি গ্যাস ডিলারশিপ ব্যবসাকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল (Indane), ভারত পেট্রোলিয়াম (Bharat Gas) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HP Gas)—এই তিনটি সংস্থা নিয়মিত নতুন গ্যাস এজেন্সি দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। শহর, আধা-শহর ও গ্রামীণ এলাকা—সব ক্ষেত্রেই নতুন ডিলারশিপের সুযোগ রয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
গ্যাস এজেন্সির ডিলারশিপ পেতে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
- আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে
- ন্যূনতম দশম শ্রেণি পাশ হতে হবে
- আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে
- নিজের নামে অথবা দীর্ঘমেয়াদি লিজে জমি/গোডাউন থাকতে হবে
- মোটামুটি ১৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করার আর্থিক সক্ষমতা থাকতে হবে
বিশেষ শ্রেণি যেমন—SC, ST, OBC, মহিলা, প্রাক্তন সেনা বা প্রতিবন্ধী আবেদনকারীদের জন্য সরকারি সংরক্ষণের সুবিধাও দেওয়া হয়।
কীভাবে আবেদন করবেন?
গ্যাস এজেন্সির ডিলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অনলাইনে বা অফলাইনে আবেদন করতে হয়।
আবেদনের সময় সাধারণত ১০,০০০ টাকা আবেদন ফি জমা দিতে হয়। এরপর লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত হলে জমি, গোডাউন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অন্যান্য নথির যাচাইকরণ হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে ডিলারশিপ লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
আয় কত হতে পারে?
এই ব্যবসার আয় মূলত নির্ভর করে সিলিন্ডার সরবরাহের সংখ্যার উপর। প্রতিটি সিলিন্ডারের বিপরীতে নির্দিষ্ট কমিশন দেওয়া হয়। কোনও এলাকায় যদি ২,০০০–৩,০০০ গ্রাহক থাকে, তাহলে মাসিক আয় সহজেই কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়াতে পারে। সময়ের সঙ্গে গ্রাহক সংখ্যা বাড়লে আয়ও বাড়ে।
এছাড়া বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ থাকলে আয় আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি স্থায়ী ও লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কেন এই ব্যবসা ঝুঁকিহীন বলা হয়?
- চাহিদা সারাবছর থাকে
- সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি
- নির্দিষ্ট কমিশন কাঠামো থাকায় আয়ের স্বচ্ছতা
- প্রতিদিনের ব্যবহার্য পণ্য হওয়ায় বাজার সংকোচনের ভয় কম
তবে মনে রাখতে হবে, কোনও ব্যবসাই একেবারে ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই বিনিয়োগের আগে সমস্ত নিয়ম, শর্ত ও খরচ ভালোভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে গ্যাস এজেন্সি ব্যবসা ভবিষ্যতের দিক থেকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো থাকলে এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার নয়। তবে যেকোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজ দায়িত্বে যাচাই করা প্রয়োজন।
দায়বদ্ধতা ঘোষণা: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। এটি কোনও বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের আগে নিজে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন, অন্যথায় আর্থিক ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকতে পারে।



