Humayun Kabir : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কি তবে আসতে চলেছে এক অপ্রত্যাশিত মোড়? ভোট এখনও বেশ কিছুটা দূরে, কিন্তু তার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে নিজের নাম ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রকাশ্যে দাবি করলেন— বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনিই হতে চলেছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে বিজেপির সমর্থন নিয়েই সরকার গড়তে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। আদৌ কি নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে? নাকি ভোটের আগে এটি কৌশলগত চাপ তৈরির চেষ্টা?
🗳️ ভোটের আগেই আত্মবিশ্বাসী হুমায়ুন কবীর
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে নিজের রাজনৈতিক অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন,
“ভোটের পর আমিই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হব। আমি নতুন দল গড়ে মাঠে নেমেছি। মানুষের সমর্থন পাব। ১০০ থেকে ১১০টি আসনে আমরা জিতব। একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে আমার দল।”
হুমায়ুনের বক্তব্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ আসে এরপরই। তিনি বলেন,
“যদি বিজেপি ৯৯টি আসনও পায়, তা হলেও তাদের আমাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে। সরকার গড়তে বিজেপির সমর্থন নিতে আমার কোনও আপত্তি নেই।”
এই মন্তব্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে— তবে কি বিজেপির সঙ্গে আগাম সমঝোতার রাস্তায় হাঁটছেন ভরতপুরের এই বিধায়ক?
🤝 বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য কার্যত বিজেপির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন দল গঠন করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়া এবং বিজেপিকে সম্ভাব্য শরিক হিসেবে উল্লেখ করা— সব মিলিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
তবে হুমায়ুনের দাবি,
“আমাদের লড়াই তৃণমূল এবং বিজেপি— দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই। ভোটের পর যে কেউ চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারে।”
এই দ্বৈত বক্তব্যই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
🔥 তৃণমূলের পাল্টা তোপ
হুমায়ুন কবীরের এই দাবির পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের বক্তব্য, ভরতপুরের এই বিধায়ক আদতে বিজেপির “বি-টিম” হিসেবে কাজ করছেন।
তৃণমূল নেতাদের দাবি,
“আজ হুমায়ুন নিজেই প্রমাণ করে দিলেন যে তিনি বিজেপির ইশারাতেই চলছেন। বিজেপির হাতের পুতুল হয়ে দিবাস্বপ্ন দেখছেন সাসপেন্ডেড বিধায়ক।”
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, ভোটের আগে মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতেই এই ধরনের অবাস্তব দাবি সামনে আনা হচ্ছে।
🧮 নীতীশ কুমারের উদাহরণ টানলেন হুমায়ুন
নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়,
“নীতীশ কুমার তো একাধিকবার কম আসন পেয়েও বিজেপির সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাহলে বাংলায় সেটা অসম্ভব কেন হবে?”
হুমায়ুন আরও দাবি করেন,
“ভোটের পর আমি ১৪৮টির বেশি বিধায়ক নিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে যাব।”
📊 তৃণমূল কত আসন পাবে?
ভোটের ফলাফল নিয়ে নিজের অনুমানও প্রকাশ করেছেন ‘জনগণ উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর মতে,
“তৃণমূল কংগ্রেস সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৭৫টি আসন পেতে পারে। রাজ্যে সরকার গড়ব আমিই।”
এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
🔍 বাস্তবতা না রাজনৈতিক কৌশল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য আদতে ভোটের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার কৌশল। আবার কারও মতে, রাজ্যে যদি সত্যিই ঝুলন্ত বিধানসভা হয়, তাহলে নতুন সমীকরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এটাও ঠিক, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে নিজের নাম এভাবে ঘোষণা করা বিরল ঘটনা। হুমায়ুন কবীরের এই আত্মবিশ্বাস বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে ভোটের অঙ্কের উপরেই।
🧩 উপসংহার
সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবি বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। এটি নিছক রাজনৈতিক কৌশল, না কি ভবিষ্যতের কোনও ইঙ্গিত— সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে ভোটের ফলই। আপাতত তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।



