কয়েক মাস আগেও যিনি ‘আইআইটি বাবা’ নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন, সেই অভয় সিংকে আবারও ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক ও চর্চা। কুম্ভ মেলা-র মঞ্চ থেকে ভাইরাল হওয়া এই উচ্চশিক্ষিত সন্ন্যাসী এবার জীবনের সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটলেন। সংসার ত্যাগের কথা বলা সেই মানুষই এখন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ—এই খবর সামনে আসতেই অবাক নেটদুনিয়া।
একসময় অভয় সিং নিজের জীবন থেকে সবরকম মোহ-মায়া ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক জীবনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষ করে Indian Institutes of Technology-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি আরও বেশি আলোচনায় আসেন। মানুষ তাঁকে ‘আইআইটি বাবা’ নামেই চেনা শুরু করে।
কুম্ভ মেলায় তাঁর উপস্থিতি এবং আধ্যাত্মিক ভাবধারা দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তবে সেই সময়ই জানা যায়, তাঁর পরিবার—বিশেষ করে বাবা-মা এবং প্রাক্তন প্রেমিকা—তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অভয় সেই সময় তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, তিনি সংসারের সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করেছেন।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সম্প্রতি জানা গেছে, অভয় সিং বিয়ে করেছেন। তাঁর স্ত্রীর নাম প্রতীকা, যিনি কর্ণাটকের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। এই বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে যখন অভয় হঠাৎ হরিয়ানার ঝাজ্জারে তাঁর বাবার অফিসে উপস্থিত হন। তাঁর বাবা একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী।
এই ঘটনাটি সামনে আসতেই মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। যিনি একসময় সংসারকে ‘মায়া’ বলে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন, তিনিই কেন আবার সেই সংসারেই ফিরে এলেন? অনেকেই মনে করছেন, হয়তো মুখে ত্যাগের কথা বললেও অন্তরের টান কখনও পুরোপুরি মুছে যায় না।
অভয় সিং এবং তাঁর স্ত্রী প্রতীকা শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা একসঙ্গে সনাতন ধর্ম এবং আধ্যাত্মিকতার প্রচারে কাজ করতে চান। এর জন্য তাঁরা একটি ‘সনাতন বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হবে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটানো। অভয়ের মতে, বর্তমান সমাজে শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, মানসিক ও আত্মিক উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যেমন জাগতিক বিদ্যা শিখবে, তেমনই শিখবে ধ্যান, যোগ এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন।
এই পরিকল্পনা অনেকের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। কারণ এটি একদিকে যেমন প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে, অন্যদিকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।
তবে সমালোচনাও কম নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অভয়ের এই সিদ্ধান্ত কি আদর্শের পরিবর্তন, নাকি জীবনের স্বাভাবিক গতিপথ? কেউ কেউ মনে করছেন, একজন মানুষের জীবনধারা সময়ের সঙ্গে বদলাতেই পারে, এবং সেটাই স্বাভাবিক। আবার অন্যদের মতে, এত বড় সিদ্ধান্তের পেছনে আরও গভীর কারণ থাকতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোচনা চলছে। কেউ অভয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ সমালোচনা করছেন। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, মানুষের জীবন কখন কোন মোড় নেবে, তা আগে থেকে বলা কঠিন।
শেষ পর্যন্ত, অভয় সিংয়ের এই নতুন যাত্রা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আধ্যাত্মিকতা এবং সংসার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে তিনি কি তাঁর লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন? সেই উত্তর সময়ই দেবে।



