Saturday, April 4, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথামধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও জ্বালানি সংকট ঠেকাতে কেন্দ্রের পদক্ষেপ, রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ...

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও জ্বালানি সংকট ঠেকাতে কেন্দ্রের পদক্ষেপ, রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ !

India Fuel Supply News : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেল সরবরাহ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত সরকার জানিয়ে দিয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল এবং সাধারণ মানুষের জন্য কোনও তাত্ক্ষণিক সংকট তৈরি হয়নি।

তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মাথায় রেখে কেন্দ্র আগাম কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে এলপিজির বিকল্প জ্বালানি হিসেবে রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সরকারের অবস্থান

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই।

Ministry of Petroleum and Natural Gas-এর যুগ্ম সচিব Sujata Sharma জানিয়েছেন, ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে।

তিনি আরও জানান, ভারতের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ এখনও নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন রিফাইনারিতে উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল পরিশোধনকারী দেশ। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট চাহিদার প্রায় ২৮ শতাংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।


এলপিজির ক্ষেত্রে আমদানির উপর নির্ভরতা

ভারতে রান্নার গ্যাস হিসেবে এলপিজির ব্যবহার অত্যন্ত বেশি। তবে এই জ্বালানির একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এলপিজি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে মোট ৪০,০০০ কিলোলিটার অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই কেরোসিন মূলত এলপিজির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার জন্য রাখা হচ্ছে। যদি কোথাও রান্নার গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে কেরোসিন স্টোভের মাধ্যমে রান্না চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সুবিধাভোগীদের মধ্যে এই কেরোসিন বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হবে।


পশ্চিমবঙ্গ কতটা কেরোসিন পাচ্ছে?

কেন্দ্রীয় বরাদ্দের অংশ হিসেবে West Bengal-কেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কেরোসিন দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৪,১৬৪ কিলোলিটার কেরোসিন।

তবে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিমাণ জ্বালানি রাজ্যের সম্ভাব্য চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট হবে কি না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এলপিজি সরবরাহে বড় সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হতে পারে।


রেশন ব্যবস্থায় কেরোসিন ফেরানোর দাবি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠন কেরোসিন সরবরাহ ফের শুরু করার দাবি তুলেছে।

এই বিষয়ে All India Fair Price Shop Dealers Federation–এর সাধারণ সম্পাদক Biswambhar Basu জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-এর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ভারতের অর্থনীতিতে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে।

শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব শেয়ার বাজার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময় হারেও পড়ছে।


অর্থনীতিতে প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে চাপ বাড়ে।

তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পায় এবং তার প্রভাব পড়ে বিভিন্ন পণ্যের দামে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মান ওঠানামাও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


কেন্দ্রের আশ্বাস

যদিও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তবু কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছে।

সরকার জানিয়েছে, দেশের প্রায় এক লক্ষ পেট্রোল পাম্পের কোথাও জ্বালানির ঘাটতি দেখা যায়নি।

এছাড়াও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, জননিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


ভবিষ্যতের দিকে নজর

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত থাকলেও ভারত সরকার আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছে।

অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ, জ্বালানি সরবরাহ পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

তবে পরিস্থিতি কতটা জটিল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments