Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিভারতে প্রথম AI সুপার বাইক, চালক ছাড়াই ছুটবে এই বাইক !

ভারতে প্রথম AI সুপার বাইক, চালক ছাড়াই ছুটবে এই বাইক !

AI Super Bike : ভারতে তৈরি হল এমন এক অত্যাধুনিক সুপার বাইক, যাকে চালাতে মানুষের হাতের প্রয়োজনই নেই। কোনও চালক ছাড়াই রাস্তায় ছুটতে পারে এই বাইক। সামনে কী আছে, কতটা দূরত্বে কোনও যানবাহন বা বাধা রয়েছে—সব নিজে থেকেই বুঝে নেয়। প্রয়োজন হলে মুহূর্তের মধ্যে নিজে থেকেই ব্রেক কষে থেমে যায়। শুনে মনে হচ্ছে কোনও সায়েন্স ফিকশন সিনেমার গল্প? একেবারেই নয়। এই প্রযুক্তি একেবারে বাস্তব, আর তার জন্ম হয়েছে ভারতের মাটিতেই।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল—এই AI চালিত সুপার বাইক তৈরি হয়েছে মূলত বাতিল বা ফেলে দেওয়া যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে। প্রযুক্তি আর পরিবেশ সচেতনতার যুগলবন্দিতে তৈরি এই বাইক ভবিষ্যতে শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্ববাজারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

🚀 নাম ‘গরুড়’, নির্মাতা তিন পড়ুয়া

এই অভিনব AI সুপার বাইকের নাম ‘গরুড়’। সুরাটের ভগবান মহাবীর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তিন ছাত্র—শিবম মৌর্য, গুরপ্রীত অরোরা ও গণেশ পাটিল—প্রায় এক বছর ধরে নিরলস পরিশ্রম করে তৈরি করেছেন এই ব্যতিক্রমী বাইকটি।

তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল, অল্প খরচে, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি স্মার্ট ইলেকট্রিক বাইক বানানো, যা নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই বাতিল যন্ত্রাংশ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে ‘গরুড়’-এর প্রায় ৫০ শতাংশ অংশ।

💰 খরচ কম, ভাবনা বড়

এই AI চালিত বাইক তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছে আনুমানিক মাত্র ১.৮ লক্ষ টাকা। যেখানে আধুনিক ইলেকট্রিক বা স্বয়ংক্রিয় যানবাহন তৈরিতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়, সেখানে কম বাজেটে এমন প্রযুক্তি তৈরি হওয়ায় ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে এই উদ্যোগ।

নির্মাতাদের মতে, বিদেশি বা আমদানিনির্ভর দামী যন্ত্রাংশ ছাড়াই উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করাই ছিল তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য।

🖥️ ফিচারের দিক থেকে কোনও অংশে কম নয়

‘গরুড়’ শুধু AI প্রযুক্তির জন্যই নয়, তার আধুনিক ফিচারের জন্যও নজর কেড়েছে। এই বাইকে রয়েছে সম্পূর্ণ টাচস্ক্রিন ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড। সেখানে জিপিএস নেভিগেশন, স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি, কল ও মিউজিক কন্ট্রোলের সুবিধা রয়েছে।

বাইকের সামনে ও পিছনে বসানো হয়েছে ক্যামেরা। সেই ক্যামেরার লাইভ ভিডিও সরাসরি স্ক্রিনে দেখা যায়, যা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চলার সময় বড় সুবিধা দেয়। দৈনন্দিন ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে রাখা হয়েছে ওয়্যারলেস মোবাইল চার্জিং ব্যবস্থাও।

🧠 AI-ই চালক, মানুষ নয়

এই বাইকের সবচেয়ে বড় চমক এর স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা। ‘গরুড়’-এর মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করছে একটি শক্তিশালী রেসপবেরি পাই প্রসেসিং ইউনিট। এই ইউনিটের মাধ্যমেই বাইকটি AI দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে বাইককে নির্দেশ দেওয়া যায়—কোথায় যেতে হবে, কত দূরত্বে থামতে হবে, কখন গতি বাড়াতে বা কমাতে হবে। এমনকি আরোহী ছাড়াই রাস্তায় চলার ক্ষমতাও রয়েছে এই বাইকের।

🛑 নিজে থেকেই বিপদ বুঝে ব্রেক

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই ‘গরুড়’ সবচেয়ে বেশি চমক দেয়। জানা গিয়েছে, বাইকটির চারপাশে প্রায় ১২ ফুটের ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও যানবাহন এলে এটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে গতি কমিয়ে দেয়। আর যদি মাত্র তিন ফুটের মধ্যে কোনও বাধা চলে আসে, তাহলে চালক ব্রেক না চাপলেও বাইকটি নিজে থেকেই থেমে যায়।

এমনকি কণ্ঠ নির্দেশ দিয়েও নির্দিষ্ট দূরত্বে বাইক থামানোর সুবিধা রয়েছে। ভারতের মতো দুর্ঘটনাপ্রবণ দেশে এই ধরনের AI নির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

🌏 ভবিষ্যতের পরিবহণের ইঙ্গিত?

এখনও এই বাইকটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। তবে ‘গরুড়’ দেখিয়ে দিয়েছে—সঠিক চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী মনোভাব থাকলে কম খরচেও বিশ্বমানের প্রযুক্তি তৈরি করা সম্ভব।

পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও স্মার্ট পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এগোতে গেলে এই ধরনের AI চালিত যানবাহনই যে ভবিষ্যতের দিশা দেখাবে, তা বলাই যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments