India Pakistan Weather : ভারত ও পাকিস্তানজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আবহাওয়ার এক অস্বাভাবিক পরিবর্তন। মার্চ মাসের শেষের দিকে যখন সাধারণত গরমের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে, ঠিক তখনই উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে দেশের একাধিক অংশে। প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং কোথাও কোথাও তুষারপাত—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ একটি বিশাল ঘূর্ণাবর্ত, যা প্রায় ১০০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এই ঘূর্ণাবর্তটির উৎপত্তি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এবং তা ধীরে ধীরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান পেরিয়ে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে প্রবেশ করেছে। এর প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলগুলিতে।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। পাহাড়ি জেলাগুলিতে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে গেছে, ফলে শীতের আমেজ ফিরে এসেছে। সিকিমের চাঙ্গু এলাকায় তুষারপাতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে দক্ষিণবঙ্গেও আবহাওয়ার খামখেয়ালি ভাব স্পষ্ট। অনেক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে, সঙ্গে দমকা হাওয়া বইছে। ফলে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমলেও, এই হঠাৎ পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের ঘূর্ণাবর্তকে সাধারণত “ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স” বলা হয়। এটি মূলত পশ্চিম দিক থেকে আসে এবং ভারতের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটায়। তবে এবার এর বিস্তার ও স্থায়িত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবই এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কার্যকারিতা বাড়ছে এবং তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এর ফলে শীতের শেষে বা গ্রীষ্মের শুরুতে এমন বৃষ্টি ও ঠান্ডা আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে, যা আগে খুব একটা দেখা যেত না।
শুধু ভারত নয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানেও একই ধরনের আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে শিলাবৃষ্টি হয়েছে, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। গত বছরও পাকিস্তান ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়েছিল, যেখানে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানেও বন্যার প্রকোপ বেড়েছে গত বছর। প্রবল বর্ষণ ও তুষার গলনের ফলে সেখানেও হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে ওই অঞ্চলে আবারও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এই ধরনের আবহাওয়ার পরিবর্তনকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির এই আচমকা রূপ বদল শুধু সাময়িক অস্বস্তিই তৈরি করছে না, বরং ভবিষ্যতের জন্যও এক বড় বার্তা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।



