India vs Pakistan : পাকিস্তানের ফাঁপা হুংকার যেন কিছুতেই থামছে না। মাঠের ফলাফল এক কথা বললেও মুখের বুলি যেন আরেক বাস্তবতায় বাস করে। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বরাবারের মতোই ভারতের কাছে লজ্জাজনক হার স্বীকার করেছে পাকিস্তান। তবু বিশ্বকাপ শেষ হতেই ফের ভারতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ স্বপ্নে বিভোর তারা। আর সেই আবহেই সামনে এল বড় খবর—বিশ্বকাপের পর চলতি বছরেই ফের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান।
এই সিদ্ধান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ক্রিকেট মহলে। ভারত-পাক দ্বৈরথ মানেই আবেগ, চাপ আর বিপুল উত্তেজনা। আর এবার সেই লড়াই হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চেই, এশিয়ান গেমসের আসরে।
বিশ্বকাপে হার, তবু শর্তের রাজনীতি পাকিস্তানের
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে দল নামানোর শর্ত হিসেবে Pakistan Cricket Board নাকি ভারতের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের দাবি তুলেছিল। তবে সেই দাবি স্পষ্টভাবেই খারিজ করে দেয় Board of Control for Cricket in India।
বিসিসিআইয়ের অবস্থান আগের মতোই অনড়—দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, শুধুমাত্র আইসিসি বা বহুজাতিক প্রতিযোগিতাতেই পাকিস্তানের সঙ্গে খেলবে ভারত। সেই নীতিতেই অবিচল থেকেছে ভারতীয় বোর্ড।
বিশ্বকাপের পরেই ফের মুখোমুখি: এশিয়ান গেমসে ভারত-পাক লড়াই
বিশ্বকাপের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও এক বড় আকর্ষণ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাপানের নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এশিয়ান গেমস। এই আসরেই আবারও মুখোমুখি হতে পারে ভারত ও পাকিস্তান।
ক্রিকেট এশিয়ান গেমসে এবার চতুর্থবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর এই প্রতিযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিসিসিআই। বোর্ড ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—পুরুষ ও মহিলা, দুই বিভাগেই পূর্ণশক্তির দল পাঠানো হবে।
২০২৩ সালে চীনের হ্যাংঝাউ এশিয়ান গেমসে ভারত পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই সোনা জিতেছিল। সেই সাফল্য ধরে রাখতেই এবার সেরা ক্রিকেটারদেরই পাঠাতে চায় ভারত।
পাকিস্তানও পূর্ণশক্তিতে, প্রতিশোধের লক্ষ্য?
অন্যদিকে পাকিস্তানও পিছিয়ে নেই। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে পুরুষ বা মহিলা—কোনও বিভাগেই পদক জিততে পারেনি তারা। ফলে এবারের আসরে নিজেদের হারানো সম্মান ফেরানোর লক্ষ্যেই পূর্ণশক্তির দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসে ভারত-পাক ম্যাচ হলে তা যে কার্যত ফাইনালের থেকেও কম উত্তেজনাপূর্ণ হবে না, তা বলাই বাহুল্য। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপে হারের জ্বালা পাকিস্তান এই মঞ্চেই মেটাতে চাইবে।
বিশ্বকাপেই কি ফের দেখা যাবে ভারত-পাক ম্যাচ?
এশিয়ান গেমসের পাশাপাশি চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আরও একবার ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি দুই দল ফাইনালে ওঠে, তাহলে ক্রিকেটপ্রেমীরা পেতে পারেন আরও এক ঐতিহাসিক মহারণ।
পরিসংখ্যান অবশ্য ভারতের পক্ষেই কথা বলে। বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচ মানেই ভারতের আধিপত্য। চাপের ম্যাচে বারবার ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান। মাঠে যতটা আত্মবিশ্বাস দেখাতে চায়, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায় না।
আইসিসির স্বীকৃতি, বাড়তি গুরুত্ব এশিয়ান গেমসের
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট এর আগে তিনবার আয়োজন করা হলেও ২০১০ ও ২০১৪ সালের আসরে এই প্রতিযোগিতা International Cricket Council-এর স্বীকৃতি পায়নি। তবে ২০২৩ সাল থেকে আইসিসির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্ট।
এর ফলেই বিসিসিআই এই প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৮ সালের অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের পর এশিয়ান গেমস কার্যত ভবিষ্যতের প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
মুখে হুংকার, মাঠে বাস্তব—পাকিস্তানের আসল পরীক্ষা সামনে
পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে ভারত ম্যাচ মানেই আলাদা চাপ। মুখে যতই বড় বড় কথা বলা হোক, মাঠে নেমে সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে তারা। বিশ্বকাপে হারের পরও হুংকার থামেনি, কিন্তু আসল জবাব দিতে হবে মাঠেই।
বিশ্বকাপের পর এশিয়ান গেমসে যদি ভারত-পাক লড়াই হয়, তাহলে সেটাই হবে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর ভারত চাইবে আগের মতোই মাঠের পারফরম্যান্সে সব জবাব দিতে।



