Ishan Kishan : ভারত বনাম পাকিস্তান—এই একটি ম্যাচই যথেষ্ট গোটা ক্রিকেট দুনিয়াকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য। আর যখন সেটা টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তখন উত্তেজনা পৌঁছে যায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। ঠিক তেমনই এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাকিস্তানকে কার্যত ‘দুরমুশ’ করে দিল টিম ইন্ডিয়া। কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেল ভারত। শুধু ম্যাচ জয় নয়, এই ফলাফলের মাধ্যমে টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৮-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারতীয় দল।
এই লজ্জার হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় ট্রোল ও মিমের বন্যা। হাজার নাটকের অবসান ঘটিয়ে ভারত যেন আরও একবার বুঝিয়ে দিল—“বাপ বাপই হয়”।
টস হারলেও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল ভারত
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সলমান আলি আগা। তাঁর ধারণা ছিল, পরে ব্যাট করে ম্যাচ নিজেদের দখলে আনা যাবে। কিন্তু ভারতের পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ম্যাচের আগে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টস জিতলেও তিনি প্রথমে ব্যাটিংই করতেন।
যদিও ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি ভারতের। ওপেনার অভিষেক শর্মা শূন্য রানে আউট হয়ে ফিরে যান। প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়ে কিছুটা হলেও চাপ তৈরি হয় টিম ইন্ডিয়ার ডাগআউটে।
ঈশান ঝড়ে ছিন্নভিন্ন পাকিস্তানি বোলিং
কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা কার্যত পাকিস্তানি বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন। ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ঈশান কিষান। একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন তিনি। মাত্র ৪০ বলে ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ঈশান। তাঁর ব্যাট থেকে আসে একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কা, যার সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ।
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রান যোগ করেন। মিডল অর্ডারে তিলক বর্মা (২৫) এবং শিবম দুবে (২৭) দলের স্কোরকে আরও মজবুত করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৫ রান। ভারত-পাকিস্তান টি-২০ ম্যাচের ইতিহাসে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ইতিহাস গড়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তান
১৭৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ভারতীয় বোলারদের নিখুঁত লাইন ও লেংথে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। কেউই ক্রিজে দাঁড়িয়ে ইনিংস গড়তে পারেননি।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বাধিক ৪৪ রান করেন উসমান খান। এছাড়া শেষদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ২৩ রানে অপরাজিত থাকলেও, তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি। পুরো দল গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে।
সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হল, পাকিস্তানের ৭ জন ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন। এই পরিসংখ্যানই ম্যাচে ভারতের দাপটের প্রমাণ।
ভারতীয় বোলারদের যৌথ আক্রমণে ধ্বংস পাকিস্তান
বল হাতে ভারতের জয়যাত্রায় বড় ভূমিকা নেন একাধিক বোলার।
জসপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী, হার্দিক পান্ডিয়া এবং অক্ষর প্যাটেল— প্রত্যেকে দু’টি করে উইকেট শিকার করেন। বোলিং ইউনিটের এই দলগত পারফরম্যান্সই পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়।
সুপার এইটে ভারতের দাপুটে প্রবেশ, মিমে ভরল সোশ্যাল মিডিয়া
এই বিশাল জয়ের সঙ্গে সঙ্গে টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই হারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ট্রোল ও মিমের বন্যা। ভারতীয় সমর্থকরা পাকিস্তান দলকে নিয়ে একের পর এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করতে থাকেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত এখন আরও আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক। এই ম্যাচ শুধু জয় নয়, মানসিক দিক থেকেও পাকিস্তানের উপর বড় ধাক্কা হয়ে থাকবে।



