India Pakistan T20 : ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে না পাকিস্তান—এমন ঘোষণায় কার্যত তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব। আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, জল্পনা এবং ব্যঙ্গ। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ সরাসরি বলছেন, ভারতের শক্তিশালী টিমের সামনে পড়ে আরেকটি লজ্জার হার এড়াতেই ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটছে পাকিস্তান। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ট্রোল শুরু হয়েছে—কারও মন্তব্য, “না পারলে খেলবে কী করে?”, আবার কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, “ভারতের বিরুদ্ধে নামলেই গো-হারা হার নিশ্চিত, তাই আগেভাগেই সরে দাঁড়াল পাকিস্তান।”
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—
👉 সত্যিই কি ভারতীয় টিমের ভয়েই পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত?
👉 নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর কোনও কারণ?
আচমকা ঘোষণায় হতবাক ক্রিকেট মহল
পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না। এই ঘোষণা সামনে আসতেই হতবাক হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহল। কারণ, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম আকর্ষণ। কোটি কোটি দর্শক, বিপুল সম্প্রচার আয় এবং উত্তেজনায় ঠাসা লড়াই—সবকিছু মিলিয়ে এই ম্যাচ আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
আর সেখান থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তান কি আদৌ মাঠের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে?
অতীত বলছে অন্য কথা
সমালোচকদের অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সাম্প্রতিক অতীতেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পরও ২০২৫ এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল পাকিস্তান। তখন তো কোনও বয়কটের কথা ওঠেনি। তাহলে হঠাৎ করে টি-২০ বিশ্বকাপে এমন সিদ্ধান্ত কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নজর যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান ফর্মের দিকে।
ভারতের আগুন ফর্মই কি ভয়ের কারণ?
বর্তমান টি-২০ ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়া যে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সম্প্রতি পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। শুধু সিরিজ জয় নয়, প্রতিটি ম্যাচেই ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দাপট।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়—
👉 সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে এখনও পর্যন্ত একটিও টি-২০ সিরিজ হারেনি ভারত।
ব্যাটিং হোক বা বোলিং, প্রতিটি বিভাগেই ভারতের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ভারতের দাপট
আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটের পরিসংখ্যান বলছে আরও অনেক কিছু। ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার অভিষেক শর্মা। অন্যদিকে বোলিংয়ে রাজত্ব করছেন ভারতেরই মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী।
নিউজিল্যান্ড সিরিজে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ভারতীয় ব্যাটাররা ঝড় তুলেছেন। পাওয়ারপ্লে থেকে ডেথ ওভার—সব জায়গাতেই বিধ্বংসী ব্যাটিং। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ভারতের বিরুদ্ধে নামলে বড় ব্যবধানে হার অনিবার্য জেনেই পাকিস্তান ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
হেড-টু-হেড পরিসংখ্যানও পাকিস্তানের বিপক্ষে
ভারত ও পাকিস্তানের টি-২০ হেড-টু-হেড রেকর্ড দেখলেও স্পষ্ট হয় শক্তির ফারাক। এখনও পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে মোট ১৬টি টি-২০ ম্যাচ হয়েছে।
- 🟢 ভারত জিতেছে: ১৩টি ম্যাচ
- 🔴 পাকিস্তান জিতেছে: মাত্র ৩টি ম্যাচ
এই পরিসংখ্যানই অনেকের কাছে প্রমাণ, টি-২০ ফরম্যাটে ভারত পাকিস্তানের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। ফলে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আরেকটি বড় হার হলে তা যে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে আরও ধাক্কা দেবে, সেটাই হয়তো ভেবেছে তারা।
ভয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব নাকি কৌশল?
সব মিলিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের ধারণা, ভারতের শক্তিশালী দল, দুর্দান্ত ফর্ম এবং একতরফা পরিসংখ্যানই পাকিস্তানকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। তাই ম্যাচ খেলেই হেরে যাওয়ার বদলে, আগেভাগেই সরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা।
তবে অন্য একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য আরও নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। কারণ মাঠে না নেমেই হার স্বীকার করা মানে আত্মবিশ্বাসের বড় ঘাটতির ইঙ্গিত।
শেষ কথা
ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—
👉 বর্তমান টি-২০ ক্রিকেটে ভারত যে কতটা শক্তিশালী, পাকিস্তানের সিদ্ধান্তই যেন তার নীরব স্বীকৃতি।
এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে যায়—আর ভারতীয় দল বিশ্বকাপে তাদের আধিপত্য কতটা দূর পর্যন্ত বাড়াতে পারে।



