Vaibhav Suryavanshi : জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় দল। ব্যাটিংয়ে দুরন্ত সূচনা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। বিশেষ করে বৈভব সূর্যবংশীর আউট হওয়া যেন পুরো ভারতীয় শিবিরে বাজ পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। হাফসেঞ্চুরি করেও ইনিংস বড় করতে না পারা, অধিনায়ক আয়ুশ মহাত্রের ব্যর্থতা এবং টপ অর্ডারের ভাঙন—সব মিলিয়ে ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা।
একই ওভারে দুই উইকেট, ম্যাচের মোড় ঘোরাল জিম্বাবোয়ে
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জিম্বাবোয়ের বোলার চিমোগোরোর একটি ওভারই বদলে দিল পরিস্থিতি। সেই ওভারে ভারত তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেট হারায়। এর ফলে দ্রুত ছন্দ হারিয়ে ফেলে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ। বিশেষ করে যখন সেট ব্যাটাররা ক্রিজে ছিলেন, তখন এমন ধাক্কা ভারতীয় দলের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
১০১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট পড়তেই চাপ বেড়ে যায় ডাগআউটে। দর্শকরাও বুঝতে শুরু করেন, এই ম্যাচ আর সহজ পথে এগোচ্ছে না ভারতের জন্য।
হাফসেঞ্চুরি করেও আক্ষেপ বাড়ালেন বৈভব সূর্যবংশী
এই ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন তিনি। মাত্র ২৪ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন বৈভব, যা ভারতের ইনিংসে নতুন গতি এনে দিয়েছিল। তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়েছে ঝকঝকে চার ও ছক্কা—চারটি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে তিনি আক্রমণাত্মক মানসিকতার পরিচয় দেন।
তবে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ৩০ বলে ৫২ রান করে আউট হয়ে যান বৈভব। সেট ব্যাটার হিসেবে তাঁর বিদায়ই ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা। কারণ তাঁর উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রানের গতি কমে যায় এবং চাপ বাড়তে থাকে পরবর্তী ব্যাটারদের উপর।
অধিনায়ক আয়ুশ মহাত্রের ব্যর্থতা বাড়াল দুশ্চিন্তা
ভারতীয় দলের অধিনায়ক আয়ুশ মহাত্রে এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। বেশ কয়েকটি চোখধাঁধানো শটও খেলেন তিনি। তবে ইনিংসকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেননি। আরও কিছুটা ধৈর্য ধরলে বড় রানের সম্ভাবনা ছিল বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
১০.৩ ওভারে চিমোগোরোর বলেই আউট হন আয়ুশ। উইকেটকিপার হ্লাবানগানার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। মাত্র ১৯ বলে ২১ রান করেন ভারতীয় অধিনায়ক। একজন ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে যে দায়িত্বশীল ইনিংস প্রত্যাশা করা হয়, তা এদিন দেখা যায়নি।
ঝলমলে শুরু করেও ব্যর্থ ওপেনার অ্যারন জর্জ
ভারতের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন অ্যারন জর্জ। ইনিংসের শুরুতে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিলেন তিনি। কয়েকটি আকর্ষণীয় শটে রানও তুলেছিলেন দ্রুত। কিন্তু সেট হয়ে যাওয়ার পর বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।
মাজাইয়ের গতি ও ভ্যারিয়েশনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন জর্জ। শেষ পর্যন্ত মুদজেংরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। ১৬ বলে ২৩ রান করেন তিনি। তাঁর উইকেট পড়ার পরই ভারতের ইনিংসে অস্থিরতা শুরু হয়।
টপ অর্ডার ব্যর্থতায় চাপ বাড়ছে ভারতের উপর
বৈভব, আয়ুশ এবং জর্জ—এই তিনজনই শুরুটা ভালো করলেও কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। আর সেখানেই ভারতের সমস্যা। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ম্যাচ জেতার জন্য টপ অর্ডারের ব্যাটারদের বড় ভূমিকা থাকে। কিন্তু এখানে সেই জায়গাতেই হোঁচট খেল টিম ইন্ডিয়া।
মিডল অর্ডারের উপর বাড়তি চাপ পড়েছে, আর জিম্বাবোয়ের বোলাররা সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
এই মুহূর্তে ম্যাচ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। ভারত এখনও লড়াইয়ে থাকলেও উইকেট হারানোর ধাক্কা তাদের মনোবলে প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে জিম্বাবোয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ম্যাচ ভারতের জন্য বড় শিক্ষা। শুধুমাত্র দ্রুত রান করলেই হবে না, ইনিংস গড়ে তোলার মানসিকতাও সমান জরুরি—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে।



