India U19 World Cup : সুপার সিক্সে ওঠা আগেই নিশ্চিত ছিল। ফলে ম্যাচটি ছিল কার্যত নিয়মরক্ষার। কিন্তু মাঠে নামার পর এক মুহূর্তের জন্যও ঢিলেমি দেখাল না আয়ুষ মাত্রের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে কার্যত দাপট দেখিয়ে ভারত জিতে নিল বিশাল ২০৪ রানের ব্যবধানে। ব্যাটে-বলে সম্পূর্ণ আধিপত্য কায়েম করে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিল ভারতের ছোটরা।
এই ম্যাচে আলাদা করে নজর কাড়লেন টিম ইন্ডিয়ার সহ-অধিনায়ক বিহান মলহোত্রা। ব্যাট হাতে শতরান করে শুধু ম্যাচ জেতালেন না, গড়ে ফেললেন একাধিক নতুন নজিরও। চলতি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনিই প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে শতরানের স্বাদ পেলেন। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে অনেকেই ভেবেছিলেন, বৈভব সূর্যবংশীই হয়তো প্রথম ভারতীয় হিসেবে শতরান করবেন। কিন্তু সব হিসাব ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষপর্যন্ত বাজিমাত করলেন পাটিয়ালার তরুণ ব্যাটার বিহান।
বিশাল রানের ভিত গড়ে দিল ভারতের ব্যাটিং
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুটা যদিও খুব একটা মসৃণ ছিল না। অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে মাত্র ২১ রানে আউট হয়ে ফিরে গেলে চাপ কিছুটা বাড়ে। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলাতে এগিয়ে আসেন বৈভব সূর্যবংশী ও বিহান মলহোত্রা। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ ৫৬ রানের জুটি, যা ইনিংসের ভিতটা শক্ত করে দেয়।
এরপর একের পর এক পার্টনারশিপে ভর করে রানের গতি বাড়াতে থাকে ভারত। বৈভব সূর্যবংশী খেলেন আত্মবিশ্বাসী ইনিংস। তিনি ৫২ রান করে আউট হন। তবে তাঁর এই অর্ধশতরান দলের স্কোরকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা নেয়।
মিডল অর্ডারে আরও একবার দৃঢ়তা দেখান অভিজ্ঞান কুণ্ডু। তিনি করেন ৬১ রান। তবে দিনের আসল নায়ক ছিলেন বিহান মলহোত্রা। পঞ্চম উইকেটে তিনি গড়ে তোলেন ১১৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ, যা কার্যত ম্যাচ জিম্বাবোয়ের হাতের বাইরে নিয়ে চলে যায়। বিহান শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ পেলেই আগ্রাসী শট খেলার মানসিকতা।
নির্ধারিত ৫০ ওভারে ভারত ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে বিশাল ৩৫২ রান। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এই স্কোর যে কোনও দলের কাছেই চাপের, সেখানে তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবোয়ের জন্য তা ছিল কার্যত পাহাড়সম।
জিম্বাবোয়ের ব্যাটিং ধসে দিল ভারতীয় বোলাররা
৩৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় জিম্বাবোয়ে। ভারতীয় বোলাররা একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখে। মাঝেমধ্যে কিছুটা লড়াই দেখালেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি জিম্বাবোয়ের ব্যাটিং লাইন-আপ।
ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন উধব মোহন ও আয়ুষ মাত্রে। দু’জনেই তিনটি করে উইকেট তুলে নেন। তাঁদের নিখুঁত লাইন-লেংথ ও পরিবর্তনশীল গতি জিম্বাবোয়ের ব্যাটারদের বিপাকে ফেলে দেয়। আরএস অম্বরীশ নেন দুটি উইকেট। একটি করে উইকেট পান হেনিল প্যাটেল ও খিলান প্যাটেল।
শেষ পর্যন্ত জিম্বাবোয়ে গুটিয়ে যায় অনেক আগেই। ফলে ভারত ২০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয়।
ম্যাচের পর কী বললেন অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে?
ম্যাচ শেষে সন্তুষ্ট শোনাল আয়ুষ মাত্রে। তিনি বলেন,
“এই ছন্দটাই ধরে রাখতে চাই। আমরা জানতাম, আমাদের প্লেয়াররা সুযোগ পেলে রান করবে। কারণ গোটা টিম একে অপরকে ব্যাক করছে। যারাই সুযোগ পাচ্ছে, তারাই নিজেদের প্রমাণ করছে।”
অধিনায়কের এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, দলের ভিতরে আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক বিশ্বাসই এখন ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আত্মবিশ্বাসের জোয়ারে ভারত
সব মিলিয়ে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এই বড় জয় ভারতের আত্মবিশ্বাসকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল। সুপার সিক্সে ওঠা আগেই নিশ্চিত হলেও, এমন দাপুটে পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিল—শুধু জেতাই নয়, আধিপত্য কায়েম করেই এগোতে চায় আয়ুষ মাত্রের ব্রিগেড।
ব্যাটে বিহানের দাদাগিরি, বৈভবের দায়িত্বশীল ইনিংস আর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল ভারত—এই দল যে শিরোপার দাবিদার, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।



