Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথাভোটের আগে দুর্নীতির অভিযোগে ‘প্রলেপ’ না কি কৌশলী চাল ? অন্তর্বর্তী বাজেটেই...

ভোটের আগে দুর্নীতির অভিযোগে ‘প্রলেপ’ না কি কৌশলী চাল ? অন্তর্বর্তী বাজেটেই কি বাজিমাত করতে চলেছে তৃণমূল ?

Mamata Banerjee Budget : ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতির ময়দান যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করে কার্যত আক্রমণাত্মক কৌশল নিল নবান্ন। দুর্নীতির একের পর এক অভিযোগে বিরোধীরা যতই সরব হোক না কেন, রাজ্য সরকারের ঘোষণাগুলি যেন সেই সব অভিযোগের উপর মোটা প্রলেপ দিয়ে দিল—এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তার উপর সুপ্রিম কোর্টে কালো কোর্ট পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি রাজনৈতিক বার্তাকে আরও তীক্ষ্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই—এই ‘ভোট বাজেট’ কি সত্যিই তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্ককে অটুট রাখবে? না কি শেষ মুহূর্তে বিরোধীরা কোনও পাল্টা কৌশল নিয়ে আসবে?


🔹 অন্তর্বর্তী বাজেটে কী বার্তা দিল নবান্ন?

বিধানসভা ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে যে রাজ্য সরকার জনমুখী হওয়ার দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, তা কার্যত স্পষ্ট। রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করে জানিয়ে দেন—সামাজিক সুরক্ষা ও ভাতা প্রকল্পই এই বাজেটের মূল স্তম্ভ।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সামাজিক পেনশন, বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ পৌঁছনোর রাস্তাকে আরও চওড়া করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট সরাসরি গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক ভোটারদের লক্ষ্য করেই তৈরি।


🔹 লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও ভাতা বৃদ্ধি—ভোটের অঙ্ক?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি। শুধু তাই নয়, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ, প্যারা টিচার, শিক্ষাবন্ধু-সহ একাধিক ক্ষেত্রের কর্মীদের সাম্মানিক বাড়ানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন,

“আমরা ভোটের আগে কথা বলে পরে ভুলে যাই না। যা বলি, তা কার্যকর করি।”

মমতার এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বিরোধীদের অন্যতম অভিযোগ—নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা বাস্তবায়ন না করা। সেই অভিযোগকেই কার্যত খণ্ডন করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল।


🔹 ‘ভোট বাজেট’ না কি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা?

বিরোধীরা এই বাজেটকে কটাক্ষ করে ‘ভোট বাজেট’ বললেও তৃণমূল শিবিরের যুক্তি আলাদা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত পাঁচ বছরে রাজ্যে বেকারত্বের হার ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প নিয়মিত চালু রয়েছে, নতুন কিছু হঠাৎ করে তৈরি করা হয়নি।

নবান্নের দাবি—এই বাজেট কোনও তাৎক্ষণিক প্রলোভন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নীতিরই অংশ।


🔹 কালো কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী—রাজনৈতিক বার্তা কী?

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে কালো কোর্ট পরে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নয়, বরং আইনি লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নেওয়ার বার্তা—এই উপস্থিতিকে তেমনভাবেই ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকরা।

অনেকের মতে, এর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝাতে চেয়েছেন—তিনি শুধু সরকার চালাচ্ছেন না, প্রয়োজনে নিজেই ময়দানে নেমে লড়াই করতে প্রস্তুত।


🔹 বিরোধীরা কি কোণঠাসা?

দুর্নীতির অভিযোগে বিরোধীরা এখনও সরব। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে আর্থিক অনিয়ম—একাধিক ইস্যু রয়েছে তাদের হাতে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মুখে এই সব অভিযোগ সাধারণ ভোটারের কাছে কতটা প্রভাব ফেলছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অর্থনৈতিক স্বস্তি ও সরাসরি উপকার পেলে অনেক ভোটার দুর্নীতির অভিযোগকে দ্বিতীয় স্থানে রাখেন। অন্তর্বর্তী বাজেট সেই মনস্তত্ত্বকেই কাজে লাগাতে চাইছে।


🔹 ভোট ব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে এই বাজেট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজেটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে—

  • গ্রামীণ ভোটারদের উপর
  • মহিলা ভোট ব্যাঙ্কে
  • নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে

এই তিনটি ক্ষেত্রেই তৃণমূলের শক্ত ভিত রয়েছে। অন্তর্বর্তী বাজেট সেই ভিত আরও শক্ত করতে পারে বলেই ধারণা।


🔚 শেষ কথা

ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতির দাবার বোর্ডে ঘুঁটি সাজিয়ে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে দুর্নীতির অভিযোগ সামলানো, অন্যদিকে জনমুখী বাজেট ও মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বার্তা—সব মিলিয়ে রাজনৈতিকভাবে হিসেবি চালই খেলেছে নবান্ন।

এই ‘ভোট বাজেট’ কতটা প্রভাব ফেলবে, তার চূড়ান্ত উত্তর দেবে ব্যালট বাক্স। তবে আপাতত এটুকু বলাই যায়—এই মুহূর্তে রাজনৈতিক লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments