Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকআগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা ! ইরানে হামলার ব্লু...

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা ! ইরানে হামলার ব্লু প্রিন্ট রেডি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ?

Iran US Conflict : মধ্যপ্রাচ্যে আবার কি যুদ্ধের দামামা? আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কি ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে চলেছে আমেরিকা? আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘিরেই তীব্র উত্তেজনা। একের পর এক সামরিক তৎপরতা, মার্কিন রণতরীর অবস্থান পরিবর্তন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বার্তা—সব মিলিয়ে ইরান ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তাহলে বিশ্ব দাঁড়িয়ে পড়তে পারে এক ভয়াবহ সংঘাতের মুখে।

ইরান কি ট্রাম্পের পরবর্তী টার্গেট?

ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই আকস্মিক এবং আক্রমণাত্মক সিদ্ধান্তের জন্য পরিচিত। ভেনেজুয়েলার ঘটনায় যেমন হঠাৎ করে রাতের অন্ধকারে অভিযান চালিয়ে বড় চমক দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনই কোনও ছক কি এবার ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মার্কিন সেনা ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য হামলার একাধিক রূপরেখা হোয়াইট হাউসের সামনে তুলে ধরেছে।

সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে পেন্টাগনের তরফে একটি বিস্তারিত সামরিক প্রেজেন্টেশন রাখা হয়েছে, যেখানে ইরানে সম্ভাব্য অভিযানের বিভিন্ন পথ ও কৌশল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করেনি, তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সেনা মোতায়েনের ধরন নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

আকাশপথ বন্ধ হলে কোন পথে হামলা?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ইরানের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ থাকলে আমেরিকা কোন পথে হামলা চালাতে পারে? সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক বিকল্প পথ ইতিমধ্যেই বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সমুদ্রপথে হামলা, মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার কিংবা দূরপাল্লার মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণ—সবই রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়।

এই মুহূর্তে ইরানের দিকে তাক করা রয়েছে অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও একটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন। এগুলি থেকে দূরপাল্লার মিসাইল নিক্ষেপ করা সম্ভব। পাশাপাশি, বিমান হামলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার গ্রুপ। সূত্রের দাবি, মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-কেও ধীরে ধীরে ইরানের কাছাকাছি আনা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চিনের দিক থেকে কিছু যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে এনে ইরান অভিমুখে মোতায়েন করা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আরও রণতরী এই অঞ্চলে পৌঁছতে পারে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে ইজরায়েলও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। ইরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। ফলে আমেরিকা যদি কোনও সামরিক পদক্ষেপ করে, ইজরায়েলও তাতে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হতে পারে—এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সম্ভাব্য টার্গেট কী?

গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, যদি সত্যিই অভিযান হয়, তাহলে প্রথম পর্যায়ে ইরানের সামরিক ঘাঁটি, মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং পরমাণু গবেষণা সংক্রান্ত পরিকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে। ফলে এই ক্ষেত্রগুলিই থাকবে মূল ফোকাসে।

তবে অনেকের মতে, এই সব তৎপরতার নেপথ্যে সরাসরি যুদ্ধের পরিকল্পনার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশলও থাকতে পারে। ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতেই কি এই শক্তি প্রদর্শন? নাকি সত্যিই আঘাত হানার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত?

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা?

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, এই সংঘাত যদি বড় আকার নেয়, তাহলে তা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে বিশ্বকে ঠেলে দিতে পারে? রাশিয়া, চিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক শক্তিশালী দেশের স্বার্থ ইরান ইস্যুতে জড়িত। ফলে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও গোটা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের দিকে। আগামী কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনেই পরিষ্কার হবে—এই উত্তেজনা কি কেবল কথার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের অধ্যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments