Indian Ocean Tension : মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা উত্তেজনার প্রভাব এবার ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার পর আবারও ওই অঞ্চলে ইরানের আরেকটি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শ্রীলঙ্কার রাজধানী Colombo-র বন্দরে সম্প্রতি এসে নোঙর করেছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ IRINS Bushehr। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশেষ করে এর আগে মার্কিন হামলায় ইরানের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena ধ্বংস হওয়ার পরও কেন একই অঞ্চলে নতুন করে ইরানি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হল, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
মার্কিন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত
কয়েকদিন আগে ভারত মহাসাগরে সংঘটিত এক সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর টর্পেডো হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা। ওই ঘটনায় বহু নৌসেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা অনেকটাই বেড়ে যায়। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তখনও চলমান ছিল এবং সেই সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে সমুদ্রপথেও দেখা দিতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপথে সামরিক উপস্থিতি বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
শ্রীলঙ্কার বন্দরে আশ্রয় ইরানি জাহাজ
এই উত্তেজনার মাঝেই ইরানের আরেক যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএনএস বুশেহর এসে পৌঁছেছে শ্রীলঙ্কার বন্দরে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট Anura Kumara Dissanayake জানিয়েছেন, জাহাজটির ইঞ্জিনে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেটিকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জাহাজটিতে মোট ২০৮ জন কর্মী ছিলেন এবং তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমে কলম্বো বন্দরে জাহাজটি নোঙর করলেও পরে সেটিকে Trincomalee বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার সরকারের দাবি, এটি সম্পূর্ণ মানবিক সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে কোনও সামরিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়।
আন্তর্জাতিক মহলে নতুন প্রশ্ন
তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের যুদ্ধজাহাজকে বন্দরে ঢুকতে দেওয়া ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
কারণ, যদি ওই জাহাজের উপর আবারও হামলা হয়, তাহলে সংঘাতের প্রভাব ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিও সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে।
ভারতের অবস্থান কী?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, ধ্বংস হওয়া ইরানি জাহাজটি নাকি আগে ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে এসেছিল।
এই প্রসঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi মন্তব্য করে বলেন, ভারতীয় নৌবাহিনীর অতিথি জাহাজকেই আমেরিকা ধ্বংস করেছে। তাঁর এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ভারত মহাসাগরে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
যদি এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে গুজব
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের পোস্ট ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে। অনেকেই দাবি করছেন, ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হতে পারে, তাই আগেভাগে গ্যাস বা তেল মজুত করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনও সরকারি নির্দেশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনও তথ্যকে সত্যি ধরে নেওয়া উচিত নয়।
পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব ভারত মহাসাগরসহ আশপাশের অঞ্চলেও পড়তে পারে।
তবে আপাতত ভারত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী দিনে এই উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন নজরে রাখছে গোটা বিশ্ব।



