Iran World Cup : ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে আচমকাই নতুন একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। বিভিন্ন সূত্রে এমন খবর সামনে এসেছে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে Iran national football team বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করছে।
যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবুও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন ঘুরছে—যদি ইরান সত্যিই বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে তাদের জায়গা নেবে কোন দল?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আগে জানতে হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা FIFA-এর নিয়ম কী বলছে।
হঠাৎ দল সরে দাঁড়ালে কী হয়?
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে সাধারণত সব দলই দীর্ঘ বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেয়।
কিন্তু কোনও দল যদি রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়, তখন ফিফাকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়।
এক্ষেত্রে কয়েকটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে।
প্রথমত, যে কনফেডারেশন বা মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা থেকে দলটি যোগ্যতা অর্জন করেছিল, সেখান থেকেই অন্য কোনও দলকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
ইরান যেহেতু এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য, তাই সেই অঞ্চল থেকেই নতুন দল নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
আলোচনায় কোন দল?
এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি দেশের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো Iraq national football team।
এশিয়ার ফুটবল প্রতিযোগিতায় ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত।
যদি বাছাইপর্বের র্যাঙ্কিং বা ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন দল বেছে নেওয়া হয়, তাহলে ইরাক সুযোগ পেতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।
আরেকটি সম্ভাব্য নাম হলো United Arab Emirates national football team।
বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তারা বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
প্লে-অফের জটিলতা
তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।
কারণ অনেক সময় বিশ্বকাপের শেষ কয়েকটি স্থান নির্ধারণ হয় আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচের মাধ্যমে।
যদি ইরানের জায়গায় সরাসরি অন্য কোনও দলকে জায়গা দেওয়া হয়, তাহলে সেই প্লে-অফ কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
এই কারণেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফিফাকে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করতে হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিও।
বিশেষ করে United States-এ অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কিছু কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় সামনে এসেছে।
মার্কিন রাজনীতিবিদ Donald Trump মন্তব্য করেছিলেন যে বিশ্বকাপে অংশ নিতে এলে ইরান দলকে স্বাগত জানানো হবে।
এই প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছেন ফিফার প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino-ও।
তিনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও খেলাধুলার পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
ইরানের অবস্থান
ইরানের ক্রীড়া প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী Ahmad Donyamali নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়নি।
ফিফার সিদ্ধান্তই শেষ কথা
এই পরিস্থিতিতে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিফার হাতেই রয়েছে।
যদি কোনও দল সত্যিই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিকল্প দল নির্বাচন করতে পারে।
সাধারণত বাছাইপর্বের ফলাফল, র্যাঙ্কিং এবং প্লে-অফ কাঠামো—সবকিছু বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফুটবল বিশ্বে নজর
বর্তমানে পুরো বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
ইরান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবে কিনা, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
তবে যদি তারা সত্যিই সরে দাঁড়ায়, তাহলে বিশ্বকাপে তাদের জায়গা নিয়ে নতুন করে শুরু হবে হিসাব।
কোন দল সেই সুযোগ পাবে, সেটাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।
ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।



