Khamenei Death : ইতিহাসে বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকছে গোটা বিশ্ব। কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর পর সেই দেশেরই একাংশ মানুষ প্রকাশ্যে উল্লাস করছে—এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে বাস্তবতা যেন আরও ভয়ঙ্কর ও জটিল।
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন এক ইরানি শরণার্থী তরুণী, যিনি আগে খামেনেইর ছবিতে আগুন দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিলেন।
খামেনেইর মৃত্যুর পর প্রকাশ্য উচ্ছ্বাস
খামেনেই নিহত হওয়ার খবর সামনে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় একের পর এক ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ করছে, কোথাও আবার শাসনের অবসানের আশায় স্লোগান উঠছে। এই আবহেই ফের সামনে এলেন ‘মর্টিসিয়া অ্যাডামস’ ছদ্মনামে পরিচিত সেই তরুণী।
তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন—খামেনেইর মৃত্যুর পর তিনি “কবরের উপর নাচবেন”। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
কে এই ‘মর্টিসিয়া অ্যাডামস’?
‘মর্টিসিয়া অ্যাডামস’ তাঁর আসল নাম নয়। নিরাপত্তার কারণে তিনি এই ছদ্মনাম ব্যবহার করেন বলেই নিজেই জানিয়েছেন। ইরানে থাকাকালীন ভিন্নমত পোষণ এবং নারীর স্বাধীনতার পক্ষে সরব হওয়ার ‘অপরাধে’ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রথমে তুরস্কে পালিয়ে যান, পরে ছাত্র ভিসায় কানাডার টরন্টোতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন।
মাহসা আমিনি আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখ
খামেনেইর শাসনকালে ইরানে নারী স্বাধীনতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে হিজাব বিরোধী আন্দোলনে নেমে নীতি পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু হয় তরুণী মাহসা আমিনি-র। তাঁর মৃত্যুর পর গোটা ইরানজুড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়, সেটিই আধুনিক ইরানের সবচেয়ে বড় গণঅভ্যুত্থান হিসেবে ধরা হয়।
সেই আন্দোলনের সময় থেকেই মর্টিসিয়া অ্যাডামস আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
খামেনেইর ছবিতে আগুন, ভাইরাল ভিডিও
কয়েক মাস আগে মর্টিসিয়া একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায়—খামেনেইর ছবিতে আগুন ধরিয়ে সেই আগুন থেকেই সিগারেট জ্বালাচ্ছেন তিনি। ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ একে সাহসী প্রতিবাদ বলেছেন, আবার কেউ একে চরম অসম্মান হিসেবে দেখেছেন।
এই ঘটনার পর থেকেই তিনি ইরান সরকারের কড়া নজরে ছিলেন বলে দাবি তাঁর অনুগামীদের।
নতুন ভিডিও, নতুন বিতর্ক
খামেনেইর মৃত্যুর পর মর্টিসিয়া আবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কানাডায় একটি ইরান-বিরোধী সমাবেশে তিনি অংশ নিয়েছেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা—
“বলেছিলাম তো, ওর কবরের উপর নাচব?”
এই একটি লাইনের জন্যই নতুন করে ঝড় উঠেছে সোশাল মিডিয়ায়।
আরেকটি পোস্টে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মন্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন,
“খামেনেই ইঁদুরের মতো মারা গিয়েছেন।”
এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও বিতর্ক দানা বাঁধে।
কীভাবে মৃত্যু খামেনেইর?
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, শুধু খামেনেই নয়—এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিংহগর্জন’। খুব শিগগিরই এই সামরিক অভিযান শেষ হবে বলেও দাবি ওয়াশিংটনের।
ইরানের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
খামেনেইর মৃত্যুর পর বড় প্রশ্ন—এবার ইরানের ক্ষমতায় কে আসবেন?
ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহলভি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইরানে শাসন পরিবর্তনের সময় এসেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেনি।
বরং পালটা হামলা চালানো হচ্ছে মার্কিন সেনা ঘাঁটি ও ইজরায়েলের উপর।
শেষ কথা
মর্টিসিয়া অ্যাডামসের উচ্ছ্বাস একদিকে যেমন ইরানের একাংশ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন, তেমনই অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
একজন রাষ্ট্রনেতার মৃত্যুর পর এই ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে—শাসন কতটা দমনমূলক হলে মানুষ মৃত্যুকেও “মুক্তি” হিসেবে দেখে। ইরানের ভবিষ্যৎ এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার পথে দাঁড়িয়ে।



