মাদকবিরোধী অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য পেল দার্জিলিং জেলা পুলিশের খড়িবাড়ি থানা। মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কেজিরও বেশি ব্রাউন সুগার উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই এক ফুড ডেলিভারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পেশার আড়ালে অবৈধ কারবার চালাচ্ছিল।
গোপন সূত্রে খবর পেয়েই অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে খড়িবাড়ি থানার আধিকারিকরা গোপন সূত্রে খবর পান যে ঘোষপুকুর–খড়িবাড়ি রাজ্য সড়ক দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করা হতে পারে। খবর পাওয়ার পরই দ্রুত একটি বিশেষ দল গঠন করা হয় এবং নজরদারি বাড়ানো হয় সংশ্লিষ্ট এলাকায়।
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত খড়িবাড়ি ব্লকের ডুমরিয়া এলাকায় ঘোষপুকুর–খড়িবাড়ি রাজ্য সড়কে সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করে পুলিশ। রাতের অন্ধকারে একটি ফুড ডেলিভারি ব্যাগ হাতে এক ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে পুলিশ তাকে আটক করে।
তল্লাশিতে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার
আটকের পর পুলিশ ওই ব্যক্তির ব্যাগ তল্লাশি করে। তল্লাশির সময় ফুড ডেলিভারি ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১ কেজি ১৮ গ্রাম ব্রাউন সুগার। এত বিপুল পরিমাণ মাদক দেখে পুলিশের আধিকারিকরাও প্রথমে হতবাক হয়ে যান।
ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের নাম সুজিত হাজদা। তিনি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পেশার আড়ালে মাদক পাচারের অভিযোগ
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সুজিত হাজদা দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ি শহরে একটি নামী খাদ্য সরবরাহ সংস্থার ফুড ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। সেই পেশার সুযোগ নিয়েই তিনি মাদক পাচারের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের অনুমান।
ফুড ডেলিভারি কর্মী হওয়ায় রাস্তায় চলাফেরা করলেও তার উপর খুব একটা সন্দেহ হতো না। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে সে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করত বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

কোথা থেকে এল মাদক, কোথায় যাচ্ছিল?
উদ্ধার হওয়া ব্রাউন সুগার কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোন চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তা পাচারের পরিকল্পনা ছিল—এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতের মোবাইল ফোন, কল ডিটেলস এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও বড় মাদক চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। ধৃতের সঙ্গে অন্য কোনও পাচারকারীর যোগাযোগ ছিল কি না, সেই দিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।
আদালতে তোলা হবে ধৃতকে
বুধবার ধৃত সুজিত হাজদাকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তার পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। পুলিশ আশা করছে, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই মাদক চক্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
মাদকমুক্ত জেলা গড়তে পুলিশের কড়া অবস্থান
দার্জিলিং জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর। গত কয়েক মাসে একাধিক মাদকবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান,
“মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলতেই থাকবে। সমাজের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পুলিশ কোনও রকম আপস করবে না।”
এলাকায় স্বস্তির বাতাস
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তির বাতাস বইছে। সাধারণ মানুষের মতে, ফুড ডেলিভারি কর্মীর ছদ্মবেশে মাদক পাচারের মতো ঘটনা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতের সঙ্গে জড়িত মাদক চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, তা খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।



