KKR IPL 2026 : আইপিএল শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। কিন্তু তার আগেই একের পর এক দুঃসংবাদে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। টি-২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক সমর্থকের মনেই প্রশ্ন—বিশ্বকাপ কি তবে কেকেআরের জন্য সত্যিই একপ্রকার অভিশাপ হয়ে উঠছে?
ক্রিকেটপ্রেমীরা যখন বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপভোগ করছেন, তখন কেকেআর শিবিরে শুধুই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। চোট ও বিতর্ক—এই দুই মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকেই, এমনটাই বলছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
চোটের মিছিলেই শুরু সমস্যার
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রথম বড় ধাক্কা খায় কেকেআর। ভারতীয় পেসার হর্ষিত রানা চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। শুধু তাই নয়, তাঁর আইপিএলের শুরুতেও খেলার সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে। প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর থেকেই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন এই তরুণ পেসার।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন শ্রীলঙ্কার তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানা। এই ঘটনার পর থেকেই কেকেআর ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে।
মুস্তাফিজ বিতর্কে পরিস্থিতি আরও খারাপ
চোটের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কেও বড় ধাক্কা খায় নাইট শিবির। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান-কে আইপিএল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে। সাড়ে ৯ কোটি টাকায় যাঁকে দলে নেওয়া হয়েছিল, তাঁকে শুরুতেই না পাওয়া কেকেআরের বোলিং কম্বিনেশনে বড় ফাঁক তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন অভিজ্ঞ ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট না থাকলে আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে। মুস্তাফিজের অনুপস্থিতি সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
গত মরশুমের দুর্বলতা এবার ভয় ধরাচ্ছে
গত আইপিএল মরশুমেও কেকেআরের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল পেস বোলিং বিভাগ। মিচেল স্টার্ক-কে ছেড়ে দেওয়ার পর সেই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। আনরিখ নখিয়া কিংবা স্পেনসার জনসনের মতো পেসাররা নিজেদের সেরাটা দিতে ব্যর্থ হন।
এই কারণেই এবারের নিলামে পেস বিভাগ ঢেলে সাজাতে মরিয়া হয়ে ওঠে কেকেআর। ১৮ কোটি টাকার বিনিময়ে পাথিরানাকে দলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি মুস্তাফিজ, হর্ষিত রানা, বৈভব অরোরা এবং উমরান মালিক—সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী পেস আক্রমণের স্বপ্ন দেখছিল নাইট ম্যানেজমেন্ট।
কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই সেই পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে।
পাথিরানার চোট ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা এখন পাথিরানাকে ঘিরেই। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড এখনও তাঁর চোটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা গুরুতর হলে আইপিএলের শুরুতে তাঁকে পাওয়া যাবে না বলেই মনে করছেন ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা।
যদি সত্যিই পাথিরানা মাঠের বাইরে চলে যান, তাহলে কেকেআরের পেস আক্রমণ কার্যত ভেঙে পড়বে।
তাহলে পেস আক্রমণের দায়িত্ব কার কাঁধে?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মুস্তাফিজ, হর্ষিত ও পাথিরানা না থাকলে পেস বিভাগের নেতৃত্ব দেবেন কে?
সেক্ষেত্রে কেকেআরের ভরসা বলতে থাকবেন তুলনামূলক অনভিজ্ঞ বৈভব অরোরা এবং গতির জন্য পরিচিত উমরান মালিক।
তবে আইপিএলের মতো চাপের মঞ্চে শুধুমাত্র গতি যথেষ্ট নয়—দরকার নিয়ন্ত্রণ ও অভিজ্ঞতা। সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অভাব নাইট শিবিরে।
সমর্থকদের একটাই প্রার্থনা
বর্তমান পরিস্থিতিতে কেকেআর সমর্থকদের একটাই আশা—পাথিরানার চোট যেন গুরুতর না হয়। আইপিএল শুরুর আগে অন্তত তাঁকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়া গেলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে পারে নাইট শিবিরে।
নচেৎ আইপিএল শুরু হওয়ার আগেই যে ‘শনির দশা’ কেকেআরের উপর নেমে এসেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা যে খুব একটা সহজ হবে না, সেটাই এখন স্পষ্ট।



