Virat Kohli & Rohit Sharma : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবারও গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে ওয়ানডে ফরম্যাট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ক্রিকেট দুনিয়ার নজর ধীরে ধীরে ঘুরে যাচ্ছে ৫০ ওভারের ক্রিকেটের দিকে। কারণ, সামনে রয়েছে একদিনের বিশ্বকাপ। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন এনে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ কমিয়ে ওয়ানডে ম্যাচ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তারা। আর এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতের দুই সবচেয়ে বড় তারকা— Virat Kohli ও Rohit Sharma।
কেন হঠাৎ ওয়ানডেতে ঝুঁকছে নিউজিল্যান্ড?
আগামী বছর আইপিএল শেষ হতেই ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে ঢুকে পড়বে ভারতীয় দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর স্বাভাবিকভাবেই রোহিত-কোহলির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসবে। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার এখন আর নিয়মিত টি-টোয়েন্টি বা টেস্ট খেলেন না। তাঁদের মূল ফোকাস শুধুই ওয়ানডে ক্রিকেট। ফলে যে কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যদি ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা বাড়ে, সেখানে তাঁদের খেলার সম্ভাবনাও নিশ্চিত হয়।
নিউজিল্যান্ড বোর্ড বুঝতে পেরেছে, কোহলি ও রোহিত খেললে শুধু ক্রিকেটীয় দিক থেকেই নয়, আর্থিকভাবেও বিশাল লাভ হয়। দর্শকসংখ্যা বাড়ে, টিকিট বিক্রি হয় বেশি, টেলিভিশন সম্প্রচারের রেটিংও একধাক্কায় উঠে যায়। সেই কারণেই টি-টোয়েন্টির বদলে ওয়ানডেতে জোর দিতে চাইছে কিউই বোর্ড।
ভারতের ভবিষ্যৎ সূচি ও প্রস্তাবিত পরিবর্তন
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ভারত ২০২৬ সালের জুন মাসে আবার ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরবে। ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। এই সব সিরিজই মূলত একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফরটি হবে অক্টোবর–নভেম্বর মাসে নিউজিল্যান্ড সফর। সেখানে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ আয়োজনের কথা রয়েছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী সেই সিরিজে থাকার কথা—
- ৫টি টি-টোয়েন্টি
- ২টি ওয়ানডে
- ২টি টেস্ট ম্যাচ
কিন্তু নিউজিল্যান্ড বোর্ড চাইছে এই সূচিতে বদল আনতে। তাদের প্রস্তাব, পাঁচটি টি-টোয়েন্টির মধ্যে দুটি ম্যাচ বাদ দিয়ে সেই জায়গায় ওয়ানডে রাখা হোক। অর্থাৎ সিরিজটি হতে পারে—
- ৩টি টি-টোয়েন্টি
- ৪টি ওয়ানডে
- ২টি টেস্ট
এই প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যেই Board of Control for Cricket in India-র সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে New Zealand Cricket।
বিশ্বকাপের আগে বাড়তি সুবিধা দু’দলেরই
আগামী একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অতিরিক্ত দুটি ওয়ানডে ম্যাচ পাওয়া গেলে উপকৃত হবে দুই দলই। ভারত পাবে আরও কিছু ম্যাচ পরিস্থিতিতে খেলার সুযোগ, আর নিউজিল্যান্ড পাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রস্তুতির মঞ্চ। পাশাপাশি এই সিরিজে রোহিত-কোহলি খেললে স্টেডিয়াম ভরবে দর্শকে, যা আয়োজক বোর্ডের জন্য বড় আর্থিক সাফল্য।
নিউজিল্যান্ড বোর্ডের একাংশের মতে, টি-টোয়েন্টির তুলনায় ওয়ানডে ম্যাচে কোহলি ও রোহিতের উপস্থিতি অনেক বেশি নিশ্চিত। ফলে সূচি বদলানো মানেই কার্যত নিশ্চিত আয়।
কোহলির সামনে ১০০ সেঞ্চুরির হাতছানি
এই মুহূর্তে বিরাট কোহলির ওয়ানডে সেঞ্চুরির সংখ্যা ৫৪। সব ফরম্যাট মিলিয়ে তাঁর মোট আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি ৮৫। অর্থাৎ ১০০ সেঞ্চুরির ঐতিহাসিক মাইলফলক থেকে তিনি আর খুব বেশি দূরে নন। চলতি ও আগামী বছরে ভারত আনুমানিক ৩০টির বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড সফরে যদি অতিরিক্ত দুটি ওয়ানডে যুক্ত হয়, তাহলে কোহলির কাছে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্বকাপের আগে ফর্মে থাকা কোহলি মানেই ভারতের ব্যাটিংয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস।
এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি
যদিও পুরো বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার স্তরেই রয়েছে। ভারতীয় বোর্ড বা নিউজিল্যান্ড বোর্ড—কেউই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সূচি বদলের কথা ঘোষণা করেনি। তবে বোর্ড স্তরে আলোচনা যে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা স্পষ্ট। সব কিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটীয় প্রস্তুতি ও আর্থিক লাভ—এই দুই সমীকরণ মিলিয়েই কোহলি-রোহিতকে ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নিউজিল্যান্ড। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এর মানে, আরও কয়েকটি হাই-ভোল্টেজ ভারত–নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে ম্যাচ দেখার সুযোগ।



