উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন পাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে এবার সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসক দলের মুখপাত্র শশী পাঁজা কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন প্রসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলতে চাইছে তৃণমূল।
‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগান বনাম বাস্তবতা
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শশী পাঁজা বলেন,
“বিজেপি মুখে মুখে ‘বেটি পড়াও, বেটি বাঁচাও’ স্লোগান তোলে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কাজ দেখলে মনে হয় প্রকৃত লক্ষ্য হল ‘ধর্ষকদের বাঁচানো’।”
তাঁর অভিযোগ, নারী সুরক্ষা নিয়ে বিজেপি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের জন্য স্লোগান ব্যবহার করে। বাস্তব ক্ষেত্রে, যখন কোনও প্রভাবশালী নেতা বা দলীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন সেই সুরক্ষা স্লোগান অর্থহীন হয়ে পড়ে।
কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন নিয়ে প্রশ্ন
কুলদীপ সেঙ্গার একসময় বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তৃণমূলের বক্তব্য, এমন একজন দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির জামিন পাওয়া সমাজের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দেয়।
শশী পাঁজা বলেন,
“যখন একজন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি জামিন পায়, তখন তা শুধু বিচারব্যবস্থার প্রশ্নই তোলে না, বরং সমাজে অপরাধীদের মনে সাহস জোগায়।”
তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নির্যাতনের অভিযোগ
শশী পাঁজা আরও দাবি করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নির্যাতনের ঘটনা বারবার সামনে এলেও দলীয় নেতৃত্ব সেই সব বিষয়ে কার্যত নীরব থাকে। তাঁর বক্তব্য,
“যখন ঘটনা বিজেপির নিজের রাজ্যে ঘটে, তখন তারা চুপ থাকে। আর বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেই বলা হয়, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি অভিযোগ করেন, এই দ্বিচারিতা বিজেপির নারী সুরক্ষা নীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সমাজে কী বার্তা যাচ্ছে?
তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, কুলদীপ সেঙ্গারের জামিনের মতো ঘটনা সমাজে একটি ভুল ও বিপজ্জনক বার্তা পাঠায়। দলের বক্তব্য, এতে অপরাধীরা মনে করে যে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে আইনের হাত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
শশী পাঁজা বলেন,
“এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। শশী পাঁজার প্রশ্ন,
“কেন্দ্রীয় সরকার কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে? নাকি তারা এই বিষয়ে কোনও দায়িত্ব নিতে রাজি নয়?”
তাঁর মতে, নারী নিরাপত্তা যদি সত্যিই সরকারের অগ্রাধিকার হয়, তাহলে এই ধরনের ঘটনায় স্পষ্ট বার্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন ইস্যু আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একদিকে বিজেপি এই বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল এই ইস্যুকে সামনে এনে নারী নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনা শুরু করতে চাইছে।
এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল, নারী সুরক্ষা কেবল আইনি বা প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
সব মিলিয়ে, কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন ইস্যু ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের এই আক্রমণ বিজেপির নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থানকে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে। আগামী দিনে এই বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



