Lakshmir Bhandar : রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ মহিলার জীবনে ফের অনিশ্চয়তার ছায়া। জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। জল্পনা ছড়িয়েছে— টানা ছয় মাস ধরে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ থাকছে? এই আশঙ্কা সামনে আসতেই বহু উপভোক্তার মাথায় হাত। সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালাতে যে টাকাটুকুর উপর নির্ভর করেন অসংখ্য মহিলা, তা আচমকাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে ক্ষোভ, আতঙ্ক আর হতাশা ছড়িয়েছে রাজ্যের একাধিক এলাকায়।
এই পরিস্থিতিতে টাকা ফের চালুর দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন একাধিক মহিলা উপভোক্তা। দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা (PIL)। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
🔴 কোথায় বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার?
মূলত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধানসভা এলাকার গজিনা ও বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দীর্ঘদিন ধরে ঢুকছে না বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতেই প্রায় ৭ হাজারের বেশি মহিলা উপভোক্তা গত ছয় মাস ধরে টাকা পাননি।
এই সমস্যাকে কেন্দ্র করেই কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্যা সুনীতা মণ্ডল সাউ। তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
❓ কেন মিলছে না টাকা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কেন বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা?
স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, গজিনা ও বাকচা— এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত বর্তমানে বিজেপির দখলে। আর সেই রাজনৈতিক কারণেই নাকি তাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আটকে রাখা হয়েছে।
মহিলাদের দাবি, সমস্ত কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে— রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে উপভোক্তাদের একাংশকে।
এই অভিযোগ ঘিরেই মাসখানেক আগে ময়না বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দেন বহু মহিলা। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি বলে দাবি।
⚖️ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক স্তরে সমাধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন উপভোক্তারা। জনস্বার্থ মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে—
- কেন যোগ্য উপভোক্তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না
- রাজনৈতিক কারণে কি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করা যায়
- প্রশাসনের ভূমিকা কেন এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিল
এই মামলার পর রাজ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
🌸 লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বর্তমানে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। এই প্রকল্পের আওতায়—
- সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা
- তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা
সহায়তা পান।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ২ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের উপভোক্তা। বহু পরিবারের ক্ষেত্রে এই টাকাই সংসারের ন্যূনতম চাহিদা মেটানোর অন্যতম ভরসা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক প্রকল্পগুলির সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভই হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বিশেষ করে মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
🗳️ ভোটের আগে নতুন চাপ?
ভোটের আবহে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে এই বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে উপভোক্তারা ভুগছেন। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি— ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
এই অবস্থায় হাইকোর্ট কী নির্দেশ দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে লক্ষ লক্ষ মহিলা উপভোক্তা।
🧩 উপসংহার
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধু একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নয়— এটি রাজ্যের বহু মহিলার সম্মান, নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার সঙ্গে জড়িত। টানা ছয় মাস টাকা বন্ধ থাকার অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে গুরুতর বিষয়। এখন দেখার, আদালতের হস্তক্ষেপে আদৌ উপভোক্তারা দ্রুত তাঁদের প্রাপ্য টাকা ফিরে পান কি না।



