মুর্শিদাবাদের লালগোলায় মাদক বিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইন সহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে লালগোলা থানার পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে মোট ২৫৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গভীর রাতে অভিযান, সন্দেহভাজন যুবক আটক
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে গোপন খবর পায় লালগোলা থানার পুলিশ। খবর ছিল, কৃষ্ণপুর ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় মাদক পাচারের একটি বড়সড় লেনদেন হতে চলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রাত আনুমানিক ১১টা ৪২ মিনিট নাগাদ লালগোলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় কৃষ্ণপুর থেকে কালমেঘা যাওয়ার রাস্তায়, কৃষ্ণপুর ফিল্ডের কাছে এক যুবকের গতিবিধি পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে নিয়ম মেনে তার দেহ তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ হেরোইন।
উদ্ধার ২৫৯ গ্রাম হেরোইন, চমকে পুলিশ
তল্লাশিতে মোট ২৫৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হওয়ায় পুলিশ আধিকারিকরাও রীতিমতো চমকে যান। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে। এত পরিমাণ মাদক এক ব্যক্তির কাছে পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
উদ্ধারের পরপরই ওই যুবককে গ্রেফতার করে লালগোলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।
ধৃত যুবকের পরিচয়
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম সাকিবুর শেখ, ডাকনাম সাকিম। বয়স ২৬ বছর। তার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার অন্তর্গত গাবতলা গ্রামে। ধৃতের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত একাধিক তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত যুবক কিছু তথ্য দিয়েছে, তবে সেগুলির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে, এই ঘটনার পিছনে একটি বড় মাদক চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।
NDPS আইনে মামলা রুজু
উদ্ধার হওয়া মাদকের ভিত্তিতে ধৃতের বিরুদ্ধে NDPS (Narcotic Drugs and Psychotropic Substances) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অভিযুক্তকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, এই পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন ধৃতকে জেরা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যা এই মাদকচক্রের মূল মাথাদের ধরতে সাহায্য করবে।
কোথা থেকে এল হেরোইন, কোথায় যাচ্ছিল?
লালগোলা থানার পুলিশ এখন মূলত তিনটি দিক খতিয়ে দেখছে—
- উদ্ধার হওয়া হেরোইন কোথা থেকে আনা হয়েছিল
- এই বিপুল পরিমাণ মাদক কোথায় পাচার করার পরিকল্পনা ছিল
- এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত
সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মুর্শিদাবাদে মাদক পাচারের ঘটনা নতুন নয়। পুলিশের অনুমান, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে এই হেরোইন অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
মাদক বিরোধী অভিযানে কড়া বার্তা পুলিশের
লালগোলা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে। কোনওভাবেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের রেয়াত করা হবে না। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, এলাকায় কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর জন্য।
২৫৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার এবং একজন যুবকের গ্রেফতার লালগোলা থানার পুলিশের বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার মাধ্যমে একদিকে যেমন মাদক চক্রের মুখোশ খুলতে শুরু করেছে, তেমনই পুলিশের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। এখন দেখার, তদন্তে আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।



