Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিমোবাইলের দামে স্কুটার ! লাইসেন্স ছাড়াই চলবে এই ইলেকট্রিক স্কুটি, বদলে যাচ্ছে...

মোবাইলের দামে স্কুটার ! লাইসেন্স ছাড়াই চলবে এই ইলেকট্রিক স্কুটি, বদলে যাচ্ছে শহরের যাতায়াত !

Electric Scooter India : দাম শুনলে প্রথমে বিশ্বাসই হবে না—একটি আধুনিক স্কুটার, তাও আবার ইলেকট্রিক, যার দাম অনেক স্মার্টফোনের থেকেও কম! ভারতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে দৈনন্দিন যাতায়াতের ধারণা। পেট্রোলের লাগামছাড়া দাম, ট্রাফিকের ঝামেলা আর লাইসেন্স–আরটিও সংক্রান্ত জটিলতার মাঝে স্বস্তির বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে লো-স্পিড ইলেকট্রিক স্কুটার। কম খরচে, কম ঝামেলায় অফিস যাওয়া, বাজার করা কিংবা ছোটখাটো কাজের জন্য এই স্কুটারগুলির চাহিদা হু হু করে বাড়ছে।

ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH)-এর নিয়ম অনুযায়ী, যে সব ইলেকট্রিক টু-হুইলারের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেগুলির জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বা আরটিও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়। এই একটি নিয়মই বাজারে কার্যত বিপ্লব ঘটিয়েছে। কারণ, কলেজ পড়ুয়া, বয়স্ক মানুষ, গৃহবধূ কিংবা যাঁরা লাইসেন্সের ঝামেলায় পড়তে চান না—সবাই এখন এই ধরনের স্কুটারের দিকে ঝুঁকছেন।


কেন লো-স্পিড ইলেকট্রিক স্কুটার এত জনপ্রিয়?

এই স্কুটারগুলির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সহজ ব্যবহার ও কম খরচ। পেট্রোল স্কুটারের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম। দৈনিক ১০–১৫ টাকার বিদ্যুতে ৫০–৭০ কিলোমিটার চলাচল সম্ভব। রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নামমাত্র, কারণ ইঞ্জিন অয়েল, ক্লাচ বা গিয়ারবক্সের ঝামেলা নেই। উপরন্তু, শব্দ কম হওয়ায় পরিবেশ দূষণও কম হয়।

আরেকটি বড় সুবিধা হল—কাগজপত্রের ঝামেলা নেই। লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, রোড ট্যাক্স—কিছুই দরকার পড়ে না। ফলে নতুন চালকদের জন্য এটি অনেকটাই নিরাপদ ও মানসিকভাবে স্বস্তিদায়ক বিকল্প।


বাজার কাঁপানো জনপ্রিয় মডেলগুলি

বর্তমানে ভারতের বাজারে একাধিক সংস্থা কম দামের, লাইসেন্স-ফ্রি ইলেকট্রিক স্কুটার নিয়ে এসেছে। তার মধ্যে কয়েকটি মডেল বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

🔹 Joy e-Bike Glob

এই সেগমেন্টে পরিচিত নাম Joy e-Bike। তাদের Glob মডেলটি শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য বেশ কার্যকর।
এই স্কুটারটিতে রয়েছে ১.৪৪ kWh ক্ষমতার ব্যাটারি। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি/ঘণ্টার মধ্যে থাকায় লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই।

ফিচারের দিক থেকেও এটি বেশ আধুনিক—ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, এলইডি হেডলাইট, রিভার্স মোড এবং সিটের নিচে প্রয়োজনীয় স্টোরেজ স্পেস। এক্স-শোরুম দাম প্রায় ৭০ হাজার টাকার আশেপাশে, যা এই ফিচারের তুলনায় যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত।


🔹 Okaya Freedom

আর একটি জনপ্রিয় নাম হল Okaya। Freedom মডেলটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে এর রেঞ্জ ও ফিচারের জন্য।
এই স্কুটারে দেওয়া হয়েছে ১.৪ kWh পোর্টেবল ব্যাটারি, যা সহজেই খুলে বাড়িতে চার্জ করা যায়। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এক চার্জে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।

ফিচার তালিকায় রয়েছে—কী-লেস লক/আনলক সিস্টেম, চুরি-বিরোধী অ্যালার্ম, এলইডি লাইট, সামনের স্টোরেজ বক্স ও সিটের নিচে অতিরিক্ত জায়গা। দাম প্রায় ৬৯,৯৯৯ টাকা, যা মধ্যবিত্ত ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।


🔹 Evolet Derby

এই তালিকায় রয়েছে Evolet-এর Derby মডেলও। এটি তুলনামূলকভাবে একটু বেশি রেঞ্জের জন্য পরিচিত।
স্কুটারটির মোটর থেকে ০.২৫ কিলোওয়াট শক্তি উৎপন্ন হয়। সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি/ঘণ্টা। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এটি প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে।

নিরাপত্তার জন্য সামনে ডিস্ক ব্রেক, পিছনে ড্রাম ব্রেক এবং ইলেকট্রনিক অ্যাসিস্টেড ব্রেকিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। এক্স-শোরুম দাম প্রায় ৭৮,৯৯৯ টাকা। যারা একটু বেশি রেঞ্জ চান কিন্তু লাইসেন্সের ঝামেলা এড়াতে চান, তাঁদের জন্য এটি ভালো বিকল্প।


কাদের জন্য এই স্কুটারগুলি সবচেয়ে উপযোগী?

এই লো-স্পিড ইলেকট্রিক স্কুটারগুলি বিশেষভাবে উপযোগী—

  • কলেজ ও স্কুল পড়ুয়াদের জন্য
  • গৃহবধূ ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য
  • ছোট দোকানদার বা ডেলিভারি কাজের জন্য
  • যাঁরা স্বল্প দূরত্বে দৈনন্দিন যাতায়াত করেন

সব মিলিয়ে বলা যায়, কম দামে স্মার্ট লুক, আধুনিক ফিচার এবং ঝামেলাহীন ব্যবহারের কারণে এই স্কুটারগুলি ভবিষ্যতে শহরের যাতায়াতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments