Lokkhi Bhandar Scheme : ভোটের মুখে বাংলার রাজনীতিতে আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল লক্ষ্মীর ভান্ডার। একদিকে রাজ্য বাজেটে ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা, অন্যদিকে ক্ষমতায় এলে তার দ্বিগুণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে মহিলাদের আর্থিক সহায়তাকেই এবার ভোট বৈতরণী পার হওয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষই। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে এসব কি বাস্তব পরিকল্পনা, না কি শুধুই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি?
🪙 লক্ষ্মীর ভান্ডারে বাড়তি ৫০০ টাকা: বাজেট ঘোষণায় শাসকের বার্তা
বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আরও ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হবে। এই ঘোষণার ফলে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে আরও বেশি ভাতা পাবেন। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘোষণা যে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
শুধু লক্ষ্মীর ভান্ডার নয়, বাজেটে আরও একাধিক সামাজিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে—
- আশা কর্মীদের ভাতা ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি
- মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ভাতা
- একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির আশ্বাস
সব মিলিয়ে বাজেটকে ঘিরে শাসকদলের বার্তা স্পষ্ট—জনকল্যাণই তাদের অগ্রাধিকার।
🟠 বিজেপির পাল্টা চ্যালেঞ্জ: দেড় হাজার নয়, মাসে ৩ হাজার টাকা!
তবে শাসকের এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিধানসভার অন্দরে তাঁর হাতে দেখা যায় একটি পোস্টার, যেখানে বড় করে লেখা—
“বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়া হবে।”
শুধু প্রতিশ্রুতিতেই থামেননি শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আগস্ট মাস থেকেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢুকবে। এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে যায় জোর আলোচনা—লক্ষ্মীর ভান্ডার কি এবার বিজেপিরও প্রধান নির্বাচনী হাতিয়ার?
⚖️ ভোট অন অ্যাকাউন্ট বনাম বাস্তবতা: শুভেন্দুর কটাক্ষ
রাজ্য বাজেটকে সরাসরি ‘নির্বাচনী প্রচারপত্র’ বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি,
“ভোট অন অ্যাকাউন্টে এত কিছু করার নিয়ম নেই। কোড অব কন্ডাক্টের কারণে এই ঘোষণা কার্যকর করা যাবে না। মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“যে যা আগে পেতেন, সেটাই পাবেন। নতুন করে কিছু কার্যকর হবে না।”
একইসঙ্গে বাজেটে যে অতিরিক্ত বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বিজেপি একমত নয় বলেও জানান তিনি।
🎓 যুব ভাতা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা
বাজেটে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীদের জন্য ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পে মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতার ঘোষণাও করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দুর প্রশ্ন,
“এই বাজেট তো মে মাস পর্যন্ত কার্যকর। তাহলে বেকার ভাতা দেওয়া হবে কীভাবে?”
তিনি পুরনো প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বলেন,
“আগে বলা হয়েছিল বেকার ভাতা দেওয়া হবে। দেড় লক্ষ আবেদন পড়েছিল। কিছুদিন টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপর প্রকল্প উধাও। চাকরি নেই, ভবিষ্যৎ নেই।”
এছাড়াও রাজ্যের ঋণ, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ না দেওয়া, প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন—সব বিষয়েই সরকারের জবাব দাবি করেন তিনি।
🤔 বড় প্রশ্ন: বিজেপি ক্ষমতায় এলে আদৌ মিলবে ৩ হাজার টাকা?
বিজেপি বাংলায় লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিরোধীদের প্রশ্ন—দিল্লিতে কেন একইভাবে মহিলাদের এই টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্র সরকার? ভোটের আগে এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সন্দেহ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভান্ডার এখন আর শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং বাংলার ভোট রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী ইস্যু। তৃণমূল যেমন এটিকে তাদের সাফল্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে, তেমনই বিজেপি সেটাকেই আরও বড় করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে।
🔥 শেষ পর্যন্ত কার বাজি?
বিধানসভা নির্বাচনের আর একশো দিনেরও কম সময় বাকি। এই সময়ে লক্ষ্মীর ভান্ডার ঘিরে প্রতিশ্রুতির লড়াই আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বাস্তবে কে কতটা দিতে পারবে, আর ভোটাররা কাকে বিশ্বাস করবেন—তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলে।



