Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথাবাবা–মায়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে নয় ? বিজেপি সরকারের প্রস্তাব ঘিরে শুরু জোর...

বাবা–মায়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে নয় ? বিজেপি সরকারের প্রস্তাব ঘিরে শুরু জোর বিতর্ক !

Marriage Law India : বিয়ে কি শুধুই দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি পরিবার ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত অনুমোদন প্রয়োজন? এই প্রশ্নকে সামনে এনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি প্রস্তাবিত সরকারি বিধি। বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা যাবে না—এমন ধারণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনি মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।

এই প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর হলে, বিয়ের মতো একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সরকারি হস্তক্ষেপ কতটা যুক্তিসংগত—তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।


কোথা থেকে শুরু হল বিতর্ক?

বিতর্কের সূত্রপাত Gujarat থেকে। সেখানে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত আইন সংশোধনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি বিধানসভায় একটি খসড়া সংশোধনী পেশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—কোনও যুগল যদি বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে চান, তাহলে তাঁদের বাবা-মাকে সেই বিয়ের বিষয়ে অবগত থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, রেজিস্ট্রেশনের সময় লিখিতভাবে জানাতে হবে যে উভয় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানেন।

এরপর সরকারি আধিকারিকরা পাত্র-পাত্রী—দু’জনেরই বাবা-মাকে আলাদাভাবে সেই তথ্য জানাবেন। সব নথি যাচাই করে ৩০ দিনের মধ্যে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে—এমনটাই খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।


সরকারের যুক্তি কী?

এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে গুজরাত সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী Harish Sanghavi জানিয়েছেন, সরকার প্রেম করে বিয়ের বিরোধী নয়। তবে তাঁর বক্তব্য, সম্মতির আড়ালে অনেক সময় প্রতারণা হয়। বিশেষ করে মেয়েদের সঙ্গে বিয়ের নামে প্রতারণা, ভুয়ো পরিচয় বা লুকোনো বৈবাহিক অবস্থা সামনে আসে অনেক পরে।

সরকারের দাবি, বাবা-মাকে অবগত রাখলে এমন প্রতারণা অনেকটাই কমানো সম্ভব। পরিবারকে পাশে রেখে বিয়ে হলে সামাজিক স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতের আইনি জটিলতাও এড়ানো যাবে।


আগেও কি এমন হয়েছে?

এই বিতর্ক একেবারে নতুন নয়। এর আগে Uttarakhand-এ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করার সময়ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেখানে একত্রবাস বা লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশনের কথা বলা হয়েছিল। তখনও ব্যক্তিস্বাধীনতা বনাম সামাজিক নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের সংঘাত সামনে আসে।

সমালোচনা সত্ত্বেও উত্তরাখণ্ডে সেই বিধি কার্যকর হয়েছে। ফলে গুজরাতের প্রস্তাবকে অনেকেই একই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই দেখছেন।


রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কেন এত কম?

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই খসড়া বিধি নিয়ে এখনও পর্যন্ত তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা যায়নি। শাসক দল Bharatiya Janata Party-র পক্ষ থেকে বিষয়টি সামাজিক সংস্কারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

আম আদমি পার্টি প্রকাশ্যে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও অবস্থান নেয়নি। রাজনৈতিক নীরবতাই এই মুহূর্তে প্রশ্ন তুলছে—তবে কি সমাজে এমন নিয়মের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে?


আইনজ্ঞদের আপত্তি কোথায়?

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ।

বিশেষ করে তাঁরা ভারতের সংবিধানের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সংক্রান্ত মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করছেন। তাঁদের মতে, দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সম্মতির ভিত্তিতে বিয়ে করলে সেখানে পরিবারের সম্মতি না থাকলেও রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

আইনজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ধরনের নিয়ম চালু হলে সামাজিক চাপ, অনার কিলিং-এর ভয় এবং পারিবারিক নিপীড়নের ঝুঁকি বাড়তে পারে।


সমাজে এর প্রভাব কী হতে পারে?

সমর্থকদের মতে, এই নিয়ম চালু হলে বিয়ের নামে প্রতারণা কমবে, গোপন বিয়ে বা ভুয়ো পরিচয়ের ঘটনা হ্রাস পাবে। পরিবার আগে থেকে জানলে ভবিষ্যতের আইনি ও সামাজিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, এটি প্রাপ্তবয়স্কদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে খর্ব করবে। প্রেমের বিয়ে, আন্তঃধর্ম বা আন্তঃজাত বিয়ের ক্ষেত্রে বাড়বে সামাজিক বাধা। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অমতে থাকা যুগলদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।


শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়

বিয়ে কি কেবল সামাজিক প্রতিষ্ঠান, নাকি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রকাশ? বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক হলে সমাজ কি আরও সুরক্ষিত হবে, না কি ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিসর সংকুচিত হবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভবিষ্যতেই দেবে সময়। তবে এটুকু নিশ্চিত—এই প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর হলে ভারতের সামাজিক ও আইনি কাঠামোয় তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

আপনার কী মত? এই নিয়ম সমাজের পক্ষে ভালো, না বিপজ্জনক? মতামত জানাতে ভুলবেন না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments