মঙ্গলগ্রহ ক্রমশ চমকের ভাণ্ডার হয়ে উঠছে। নাসার রোভার পারসিভিয়ারেন্স ফের এক অদ্ভুত সন্ধান নিয়ে এসেছে – একটি টুপির মতো পাথর। হ্যাঁ, এটি মাথায় পরার টুপি নয়, তবে হুবহু আবহাওয়ার কপ থেকে মাথা বাঁচাতে যে ধরনের টুপি ব্যবহার হয়, ঠিক সেই রকম আকৃতির। এই অচেনা পাথর দেখে বিজ্ঞানীদের উৎসাহ বেড়েছে। মঙ্গলের চেনা পাথরের সমান্তরাল এই নতুন আকৃতির উপস্থিতি রহস্য তৈরি করেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাথরের আকৃতি, মাপ এবং অবস্থান মঙ্গলের অতীত আবহাওয়ার তথ্য দিতে পারে। লাল গ্রহে প্রাণের খোঁজে যেসব রোভার পাঠানো হয়েছে, তাতে এই ধরনের তথ্য নতুন দিশা দিতে পারে। পারসিভিয়ারেন্স জেজেরো ক্রেটারের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ছোট ছোট টিলার ওপর উঠে ছবি পাঠাচ্ছে। প্রতিটি নতুন ছবি মঙ্গলের গোপন রহস্যের কিছু অংশ উন্মোচন করছে।

এই পাথরকে পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যদি এটি ঠিকমত বিশ্লেষণ করা যায়, তবে মঙ্গলে একসময় প্রাণের উপস্থিতি বা পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষভাবে, লাল গ্রহের আবহাওয়ার ক্রমশ পরিবর্তন এবং ভূত্বকের গঠন নিয়ে এই পাথর উপকারী হতে পারে।
মঙ্গলের আরেক রোভার কিউরিওসিটিও নানা তথ্য পাঠাচ্ছে। পারস্পরিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মানুষের মঙ্গল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধীরে ধীরে জানা যাচ্ছে মঙ্গলের মাটির গঠন, তাপমাত্রা, ও আর্দ্রতার মতো দিক। এই টুপির মতো পাথর এসব বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করতে পারে।

লাল গ্রহে প্রতিটি নতুন সন্ধান নতুন প্রশ্ন ও উত্তেজনা তৈরি করছে। এই টুপির মতো পাথর কি একদিন আমাদের জানাবে মঙ্গলে কখনও প্রাণ ছিল? পারসিভিয়ারেন্স ও কিউরিওসিটির পাঠানো ছবি ও তথ্য বিজ্ঞানীদের কৌতূহল তুঙ্গে পৌঁছে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন খুব দ্রুত মানব অভিযানের পরিকল্পনা করতে।
মঙ্গলের মাটিতে একের পর এক নতুন আকৃতির পাথর, টিলার ও ক্রেটারের সন্ধান বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। পারসিভিয়ারেন্সের এই টুপির মতো পাথর শুধু আকর্ষণীয় নয়, এটি ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎসও হতে পারে। লাল গ্রহ ক্রমশ রহস্যময় এবং প্রতিটি সন্ধান বিজ্ঞানীদের কল্পনাকে উসকে দিচ্ছে।



