Modi-Trump Controversy : বিশ্ব রাজনীতির অন্দরে ফের এক চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। আর সেই ঘটনার রেশ টেনেই এবার ভারতের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। প্রশ্ন উঠছে—ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে কি ভারতও? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি আদৌ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করতে পারেন? এই সব প্রশ্ন ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পৃথ্বীরাজ চভনের বক্তব্য থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তাঁর মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে।
ভেনেজুয়েলার ঘটনা কীভাবে টেনে আনল ভারতের নাম?
সাম্প্রতিক ঘটনায় আমেরিকার বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে সেদেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করে নিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন বহু দেশ ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। ঠিক এই প্রেক্ষিতেই কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চভন প্রশ্ন তুলেছেন—আজ ভেনেজুয়েলা, কাল কি অন্য কোনও দেশ?
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চভন প্রকাশ্যেই বলেন, “ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, তা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী। একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে অপহরণ করা নজিরবিহীন। প্রশ্ন হল, ভবিষ্যতে কি অন্য দেশও এমন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে? এমনকি ভারতও কি নিরাপদ?”
এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
মোদিকে অপহরণ? মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক
এক সাক্ষাৎকারে পৃথ্বীরাজ চভন আরও একধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “এর পর কী? মিঃ ট্রাম্প কি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও অপহরণ করবেন?” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিজেপি শিবির তীব্র আক্রমণ শুরু করে কংগ্রেসকে। বিজেপির দাবি, এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।
চভনের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য নীতি এবং আগ্রাসী কূটনৈতিক অবস্থান ভারতের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে। তাঁর মতে, ভেনেজুয়েলার ঘটনায় ভারত সরকারের স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়াও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
কেন ভারত সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন?
কংগ্রেসের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভারত সরকার দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে। পৃথ্বীরাজ চভনের দাবি, “চিন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলি প্রকাশ্যে আমেরিকার সমালোচনা করেছে। কিন্তু ভারত কার্যত নীরব থেকেছে। এমনকি ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষের ক্ষেত্রেও আমরা স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারিনি।”
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী দেশের উচিত নিজের কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি বক্তব্য দাবি করেছে কংগ্রেস।
বিদেশমন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া কী?
যদিও প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান পর্যায় থেকে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি, তবে ভারতের বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, “ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। আমরা সকল পক্ষকে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানাই।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং ভারত গোটা পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কংগ্রেস নেতার মন্তব্য বাস্তবে একটি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি—এ ধরনের মন্তব্য ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ও ভারতের অবস্থান একেবারেই আলাদা। ভারতের কূটনৈতিক ও সামরিক শক্তি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনীয় নয়। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও মত অনেকের।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভেনেজুয়েলার ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। মোদিকে অপহরণের মতো মন্তব্য বাস্তবে কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান ও কূটনৈতিক নীতির দিকে নতুন করে নজর টেনেছে। ভবিষ্যতে ভারত সরকার এই বিষয়ে আরও স্পষ্ট বার্তা দেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী।



