Modi Yogi Controversy : ভারতীয় রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে খোদ তাঁর দলের অন্দর থেকেই—এমন দাবিকে ঘিরে চাঞ্চল্য বিজেপির অন্দরমহলে। বিষয়টির কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া। একাধিক বুথে একই ভোটারের নাম থাকা, বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়া এবং সেই অভিযোগ উঠে আসা খোদ মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসী থেকে—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
যদিও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেননি, তবে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যের অভিযোগেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
মোদীর কেন্দ্রেই ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন
উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী এবং বারাণসী উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্র জয়সওয়াল প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে তাঁর নির্বাচনী এলাকাতেই একাধিক ভোটকেন্দ্রে একই ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত রয়েছে।
রবীন্দ্র জয়সওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী—
- অন্তত ৯,২০০ জন ভোটারের নাম একাধিক স্থানের ভোটার তালিকায় রয়েছে
- SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও এই অসঙ্গতি রয়ে গেছে
- এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
বিধায়কের সাফ বক্তব্য,
“যদি একই ভোটারের নাম একাধিক বুথে থেকে যায়, তাহলে এসআইআর প্রক্রিয়া আদৌ কতটা সফল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।”
জেলাশাসকের কাছে জমা ৯,২০০ ভোটারের তালিকা
শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখার পর বারাণসীর জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক সত্যেন্দ্র কুমার-এর সঙ্গে দেখা করেন রবীন্দ্র জয়সওয়াল। সেই বৈঠকে তিনি একটি বিস্তারিত তালিকা তুলে দেন, যেখানে ৯,২০০ জন ভোটারের নাম রয়েছে—যাঁরা একাধিক স্থানের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত বলে দাবি।
বিধায়কের আরও দাবি—
- প্রতিটি নাম মাঠ পর্যায়ে যাচাই করেই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে
- প্রশাসনিক ভুল হলে তার দায় নির্ধারণ জরুরি
- অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন
এই ঘটনাই বিজেপির অন্দরেই নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োতে বিধায়কের বিস্ফোরক মন্তব্য
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে রবীন্দ্র জয়সওয়ালকে বলতে শোনা যায়—
“আমি বিশ্বাস করি, একজন ভারতীয় নাগরিকের নাম শুধুমাত্র একটি ভোটার তালিকায় থাকা উচিত। এসআইআর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্যই হলো গভীর ও নিখুঁত যাচাই। অথচ আমার বিধানসভা কেন্দ্রেই ন’হাজারের বেশি এমন নাম পাওয়া গেছে, যেগুলো একাধিক জায়গায় রয়েছে।”
এই বক্তব্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে হওয়া ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়ার উপর প্রশ্নচিহ্ন বসিয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া ও বিপুল ভোটার বাদ পড়া
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিন দফায় সময়সীমা বাড়ানোর পর গত ৬ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশে SIR-এর প্রথম ধাপ শেষে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী—
- প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে
- এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ের পর এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে
এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়েই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
যোগী আদিত্যনাথ কি কেন্দ্রের উপর ক্ষুব্ধ?
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এত বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়তে পারে আঁচ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আগেই ঘনিষ্ঠ মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
তাঁর আশঙ্কা—
- ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে
- বিরোধীরা ভোটার বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলতে পারে
- প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দায় শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের উপরই পড়বে
এমনকি বিজেপির অন্দরের একাংশ সূত্রের দাবি, যোগীর আশঙ্কা—২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে তাঁকে দুর্বল করতে কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী মন্ত্রী কৌশলগত চাল দিচ্ছেন। যদিও সেই মন্ত্রীর নাম প্রকাশ্যে কেউই বলতে চাইছেন না।
মোদী–যোগী সম্পর্ক কি নতুন টানাপড়েনে?
রবীন্দ্র জয়সওয়ালের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—
মোদী ও যোগীর মধ্যে কি আদৌ মতানৈক্য বাড়ছে?
যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিতর্ককে প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবেই দেখাতে চাইছে, তবে মোদীর নিজের কেন্দ্র থেকে এমন অভিযোগ উঠে আসা নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর।
এসআইআর প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের।



