Mohammad Yunus : বাংলাদেশে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সামলানো ডঃ মহম্মদ ইউনূস এবার সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ চলমান রাখতে এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূস। দুই বছর দেশের দায়িত্ব সামলানোর পর নির্বাচিত সরকার শপথ নেবে এবং এবার পালাবদল ঘটছে।
এমন পরিস্থিতিতে সকলের মনেই প্রশ্ন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা কী করবেন? এই উপদেষ্টা পরিষদে বর্তমানে ২১ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও রয়েছেন বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীও রয়েছেন। শেষ কর্মদিবসে বহু উপদেষ্টার মন্ত্রকেই আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে দায়িত্ব শেষের উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর পুনরায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিছুদিন বিশ্রামের পর মার্চে তিনি পুনরায় শিক্ষকতায় যোগ দেবেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও ফিরে যাচ্ছেন শিক্ষকতায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন তিনি শিক্ষকতা, লেখালেখি ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষের পর পুরনো জীবনে ফিরে যাওয়া তাঁর লক্ষ্য।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন এবং এরপর লেখালেখিতে মনোযোগ দেবেন। খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলি ইমাম মজুমদার দায়িত্ব শেষের পর আগের মতোই সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হবেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দায়িত্ব শেষের সঙ্গে সঙ্গে রমজান মাসে ইবাদতে মনোনিবেশ করবেন। রমজানের পর লেখালেখি ও বই পড়ায় ফের মনোযোগ দেবেন। তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতেন, যা তিনি দায়িত্ব শেষে ফেরত দেবেন এবং প্রয়োজন হলে নতুন গাড়ি কিনবেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব শেষের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিতে ফিরে যাবেন। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদও কিছুদিন নিরিবিলিতে থাকবেন এবং তারপর মানবাধিকার ও ব্রতীর ক্ষেত্রে কাজ চালাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থানে যুক্ত মহিলাদের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে বড়সড় উন্নয়ন না হলেও দেশের প্রশাসনিক কাজগুলো নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হয়েছে। বড়ো টাকার সোর্স ও সরকারি উদ্যোগগুলো দায়িত্ব শেষের পর এখন নতুন সরকারকে হস্তান্তর করা হবে। এরপর এই উপদেষ্টারা নিজেদের আগের কাজে ফিরে গিয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা, সামাজিক কল্যাণ এবং মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করবেন।
মোটকথা, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও মহম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টাদের অবদান দেশের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে নিজের আগের কাজ ও সামাজিক কার্যক্রমে ফিরে যাচ্ছেন, যা দেশের উন্নয়নে নতুন উদাহরণ স্থাপন করবে।



