Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামহম্মদ শামির কেরিয়ার কি শেষের পথে ? নাকি প্রত্যাবর্তনের আগুনে জ্বলছে নতুন...

মহম্মদ শামির কেরিয়ার কি শেষের পথে ? নাকি প্রত্যাবর্তনের আগুনে জ্বলছে নতুন অধ্যায় ?

Mohammed Shami : এক সময় ভারতীয় ক্রিকেট মানেই ছিল ভয়ঙ্কর এক পেস আক্রমণ—যার অন্যতম মুখ ছিলেন মহম্মদ শামি। নতুন বল হাতে নিখুঁত লাইন-লেন্থ, পুরনো বলে রিভার্স সুইং—বিশ্ব ক্রিকেটে শামির মতো বোলার হাতে গোনা। অথচ আজ তিনিই জাতীয় দলের বাইরে। এমনকি বাদ পড়েছেন বিসিসিআই-এর কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা থেকেও। ফলে প্রশ্ন উঠছেই—শামির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার কি তবে শেষের পথে?

এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে কারণ, ফর্মের অভাব নয়—বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য সত্ত্বেও জাতীয় দলে তাঁর নাম নেই।


বিশ্বকাপের নায়ক থেকে জাতীয় দলের বাইরে—কীভাবে বদলে গেল ছবি?

একটা সময় ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণ কল্পনাই করা যেত না শামিকে বাদ দিয়ে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী পেসার হওয়ার পরও আজ তিনি জাতীয় দলে ব্রাত্য। তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তারপর থেকে একের পর এক সিরিজ এল, দল বদলাল—কিন্তু ডাক এল না শামির নামে।

এমনকি সাম্প্রতিক ঘোষিত বিসিসিআই-এর কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকাতেও জায়গা পেলেন না এই অভিজ্ঞ পেসার। যা স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় বাড়িয়েছে।


রাজনীতি, বয়স নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ—কেন উপেক্ষা?

ক্রিকেটমহলে জোর চর্চা—শামির এই উপেক্ষা কি শুধুই বয়সের কারণে? নাকি নির্বাচনী রাজনীতির শিকার হচ্ছেন তিনি? ৩৪ বছর বয়স আজকের ক্রিকেটে খুব বেশি নয়, বিশেষ করে পেসারদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অনেক সময় বড় সম্পদ হয়ে ওঠে।

তাহলে কি ব্যক্তিগত বিতর্ক, অতীতের কিছু বিষয় এখনও প্রভাব ফেলছে? নাকি নির্বাচকরা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নতুনদের ওপরই বেশি ভরসা রাখতে চাইছেন? কোনও প্রশ্নেরই স্পষ্ট উত্তর নেই।


রঞ্জিতে আগুন—৮ উইকেট নিয়ে জোরালো বার্তা

জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও লড়াই থামাননি শামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি যেন আরও ভয়ঙ্কর। সদ্য রঞ্জি ট্রফি-র সেমিফাইনালে বাংলা-র জার্সিতে জম্মু ও কাশ্মীর-এর বিরুদ্ধে এক ইনিংসে একাই তুলে নেন ৮ উইকেট।

বড় রান তুলেও লিড নিতে পারেনি জম্মু-কাশ্মীর—কারণ একটাই, শামির চাবুক বোলিং। নতুন বলে নিখুঁত সুইং, পুরনো বলে বিধ্বংসী ইয়র্কার—সব মিলিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, আগুন এখনও নিভে যায়নি।

এই পারফরম্যান্স শুধুই ম্যাচ বাঁচানো নয়, বরং নির্বাচকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—“আমি এখনও তৈরি।”


পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা

চলতি রঞ্জি মরশুমেই সাত ম্যাচে শামির উইকেট সংখ্যা ৩৮। এর মধ্যে তিনবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার নজির রয়েছে। গত মাসে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধেও নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট।

এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলের দরজা বন্ধ থাকলে প্রশ্ন উঠবেই—এটা কি শুধুই ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত?


২০২৭ বিশ্বকাপ কি শামির শেষ সুযোগ?

২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া। এই দেশগুলির পিচ ও কন্ডিশনে অভিজ্ঞ পেসারদের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ক্রিকেট বোদ্ধারা জানেন।

এই আবহাওয়ায় শামির মতো বোলার ভারতীয় দলের জন্য ভয়ঙ্কর অস্ত্র হতে পারেন। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও ফিটনেস থাকলে তিনি এখনও ম্যাচ জেতাতে সক্ষম—তা রঞ্জির পারফরম্যান্সই প্রমাণ।


থেমে নেই লড়াই, থামেনি স্বপ্ন

আজ জাতীয় দলের বাইরে, কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকাতেও নেই তাঁর নাম। তবু শামির চোখে মুখে ক্লান্তি নয়—আছে লড়াইয়ের আগুন। ক্রিকেট ইতিহাস সাক্ষী, অনেক বড় কামব্যাক এসেছে ঠিক এমন পরিস্থিতি থেকেই।

প্রশ্ন একটাই—ভারতীয় নির্বাচকরা কি সেই আগুনের মূল্য দিতে প্রস্তুত?

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments