Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাচ্যাম্পিয়নদের মতোই অভিযান শুরু মোহনবাগানের, ঘরের মাঠে কেরলকে হারিয়ে আইএসএলে জয়ের স্বাক্ষর...

চ্যাম্পিয়নদের মতোই অভিযান শুরু মোহনবাগানের, ঘরের মাঠে কেরলকে হারিয়ে আইএসএলে জয়ের স্বাক্ষর !

Mohun Bagan Super Giant : চ্যাম্পিয়ন দল হলে শুরুটাও হয় চ্যাম্পিয়নদের মতোই—এ কথাই যেন প্রমাণ করে দিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র বিকেলে, ভালোবাসার রঙে রাঙানো পয়লা ফাল্গুনের দিনে ঘরের মাঠ যুবভারতীতে সবুজ-মেরুন শুরু করল তাদের আইএসএল অভিযান। প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী কেরালা ব্লাস্টার্স। কিন্তু ম্যাচের শেষে স্কোরলাইন স্পষ্ট—২-০ গোলে জয় মোহনবাগানের।

এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট এনে দিল না, বরং নতুন মরশুমে দলের মানসিকতা, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং কোচিং দর্শনের প্রথম ঝলকও দেখিয়ে দিল।

লোবেরার যুগের জয়সূচক সূচনা

সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—মোহনবাগানের হেড কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচেই জয় পেলেন সের্জিও লোবেরা। ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, দলকে নতুন করে গড়া হচ্ছে, শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। কিন্তু মাঠে যা দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট—এই শূন্য মানে ভয় নয়, বরং নতুন শক্তির জন্ম।

মেসি ইভেন্টের কারণে যুবভারতীতে দীর্ঘদিন পর বড় ম্যাচ ফিরেছে। সেই সঙ্গে ফিরেছে মোহনবাগানের দাপট। গ্যালারিভর্তি সমর্থক, ঢাক-ঢোল আর সবুজ-মেরুন পতাকার ঢেউয়ে একেবারে অন্যরকম আবহ তৈরি হয়েছিল।

শুরু থেকেই আক্রমণ, কেরলকে চাপে রাখে বাগান

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মোহনবাগান। প্রথম ২০ মিনিটেই বোঝা যায়, কেরালাকে রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করার পরিকল্পনা নিয়েই নেমেছে লোবেরার দল।

দিমিত্রি পেত্রাতোস ও রবসনের যুগলবন্দি শুরু থেকেই কেরলের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করে। ৫ মিনিটেই সেই ঝলক দেখা যায়। ১২ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ক্রস থেকে সুযোগ আসে। পরের মিনিটেই দূরপাল্লার শট নেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। যদিও গোলের মুখ খুলছিল না।

১৯ মিনিটে রবসন একক দক্ষতায় বক্সে ঢুকে পড়েন। ২১ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার দূরপাল্লার শট পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। বলের দখল, পাসিং নেটওয়ার্ক—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল মোহনবাগান।

কাঙ্ক্ষিত গোল, দিমির অ্যাসিস্টে জেমির ফিনিশ

অবশেষে ৩৬ মিনিটে এল সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। দিমিত্রি পেত্রাতোস বক্সের মধ্যে ঢুকে নিখুঁত ছোট্ট পাস বাড়ান জেমি ম্যাকলরেন-এর দিকে। ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা জেমি কোনও ভুল না করে সরাসরি বল জালে পাঠান। কেরল গোলকিপার সচিন সুরেশের কিছুই করার ছিল না।

এই গোল যেন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থকের জন্য ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র বিশেষ উপহার—একটি লাল গোলাপের মতোই নিখুঁত।

শেষ মুহূর্তে টম অলড্রেডের সিলমোহর

ম্যাচের শেষদিকে কেরল কিছুটা চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও মোহনবাগানের রক্ষণ ছিল বেশ সংগঠিত। আর অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নির্ধারণ করে দেন টম অলড্রেড। হেডে করা তাঁর গোল কার্যত ম্যাচে সিলমোহর লাগিয়ে দেয়—২-০।

প্রস্তুতির অভাবেই পিছিয়ে কেরল

কেরালা ব্লাস্টার্সের জন্য এই ম্যাচ ছিল কঠিন। জানা গিয়েছে, মাত্র ১৪ দিনের মতো অনুশীলন করেই ম্যাচে নামতে হয়েছে তাদের। ফলে দলগত সমন্বয়ের অভাব শুরু থেকেই চোখে পড়ে। বল হারালেই মোহনবাগানের হাই প্রেসের সামনে তারা বারবার সমস্যায় পড়ে।

মোহনবাগানের দ্রুত পাসিং, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণের ধার কেরলকে কার্যত খেলায় ফিরতেই দেয়নি।

চ্যাম্পিয়নস মেন্টালিটি দেখাল সবুজ-মেরুন

সব মিলিয়ে এই ম্যাচে মোহনবাগান বুঝিয়ে দিল, তারা শুধু নামেই চ্যাম্পিয়ন নয়—মননেও। নতুন কোচ, নতুন মরশুম, নতুন লক্ষ্য—সবকিছুর সূচনা হলো এক দাপুটে জয়ের মাধ্যমে।

আইএসএল-এর লম্বা লিগে এই জয় আত্মবিশ্বাসের রসদ হয়ে থাকল। সমর্থকদের কাছেও বার্তা স্পষ্ট—সবুজ-মেরুন আবারও শিরোপার লড়াইয়ে নামছে পূর্ণ শক্তিতে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments